‘জাতীয় শিক্ষানীতি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরোধী’, ICSE – ISC স্কুলগুলিকে সরব হওয়ার ডাক তৃণমূল সাংসদের

January 5, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৭:২৫: জাতীয় শিক্ষানীতি (New Education Policy – NEP) নিয়ে ফের সরব তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর অভিযোগ ‘ফেডারেল’ বা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী এবং রাজ্যগুলির সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই তা তৈরি করা হয়েছে। সোমবার এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, আইসিএসই (ICSE) ও আইএসসি (ISC) স্কুলগুলির অধ্যক্ষদের এক সম্মেলনে তিনি এই শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে একজোট হয়ে বিরোধিতার আহ্বান জানান।

কলকাতার লা মার্টিনিয়ার ফর গার্লস স্কুলে অনুষ্ঠিত ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ হেডস অফ অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান স্কুলস ইন ইন্ডিয়া’–র ১০৩তম বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেরেক। সেখানে ৩,০০০-এরও বেশি স্কুলের প্রতিনিধিদের সামনে তিনি অভিযোগ করেন, এই নীতি তৈরির সময় কোনও রাজ্যের সঙ্গেই পরামর্শ করা হয়নি। তিনি বলেন, “জাতীয় শিক্ষানীতি ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে।”

পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু এবং কর্নাটকের মতো রাজ্যগুলির নিজস্ব শিক্ষানীতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে ২০২৩ সালেই পশ্চিমবঙ্গ নিজস্ব রাজ্য শিক্ষানীতি কার্যকর করেছে। এছাড়া তামিলনাড়ু এবং কর্নাটকও ২০২৫ সালে তাদের নিজস্ব নীতি ও খসড়া প্রকাশ করেছে।” তাঁর দাবি, স্টেকহোল্ডার বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে আলোচনার অভাবেই স্কুলগুলির পক্ষে এনইপি-যুক্ত প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সংখ্যালঘু পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রশাসনিক অধিকার নিয়েও এদিন উদ্বেগ প্রকাশ করেন তৃণমূল নেতা। সংবিধানের ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের নিজেদের পছন্দমতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করার যে অধিকার সংবিধানে রয়েছে, জাতীয় শিক্ষানীতির ‘কেন্দ্রীকরণের প্রবণতা’ সেই অধিকারে হস্তক্ষেপ করছে। সম্প্রতি পেশ হওয়া ‘বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল’–এর মতো পদক্ষেপ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির স্বায়ত্তশাসন আরও খর্ব করবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দের প্রসঙ্গ তুলে ডেরেক (Derek O’Brien) অভিযোগ করেন, জাতীয় শিক্ষানীতিতে জিডিপি-র (GDP) ৬ শতাংশ শিক্ষাখাতে ব্যয়ের সুপারিশ থাকলেও, বাস্তবে তা কখনও ৩-৪ শতাংশের গণ্ডি পেরোয়নি।

এর পাশাপাশি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে খ্রিস্টান মিশনারিদের (Christian missionary) অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি জানান, দেশে প্রায় ৫৪ হাজার খ্রিস্টান পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে প্রতি বছর প্রায় ৬ কোটি পড়ুয়া ভর্তি হয়। এর মধ্যে প্রতি চারজনের তিনজনই অ-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের। এছাড়াও দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এই সম্প্রদায়ের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া এলাকায় প্রায় ৮০ শতাংশ কাজই তাদের দ্বারা পরিচালিত হয়। তিনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে জনজীবনে ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দেন।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen