নামেই জাতীয় শিক্ষানীতির বিরোধিতা! ‘পিএমশ্রী’ অনুদান গ্রহণে বিতর্কে বামশাসিত কেরল
Authored By:

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২০:৫০: কেন্দ্রের জাতীয় শিক্ষানীতির (NEP) বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছিল কেরল। মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন (Pinarayi Vijayan) নিজে বলেছিলেন, “এই শিক্ষানীতি গোটা দেশের জন্য বিপজ্জনক।” কিন্তু সেই কেরল সরকারই এবার মোদী সরকারের (Modi Govt) ‘পিএমশ্রী’ প্রকল্পের (PM SHRI) অধীনে দেড় হাজার কোটি টাকার অনুদান গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের পর এমন ঘুরপথে সহযোগিতা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
২০২০ সালে কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় শিক্ষানীতির প্রস্তাব দেয়। বিজেপি (BJP) শাসিত একাধিক রাজ্য তা কার্যকর করলেও, তামিলনাড়ু (Tamil Nadu), পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) ও কেরল (Kerala) সরাসরি বিরোধিতা করে। কেরল সরকার তখন জানিয়েছিল, তারা কোনওভাবেই NEP কার্যকর করবে না। কিন্তু ‘পিএমশ্রী’ প্রকল্পের অর্থ গ্রহণের সিদ্ধান্তে সেই অবস্থান কতটা বজায় থাকছে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
কেরলের শিক্ষা মন্ত্রী ভি. শিবনকুট্টি বলেন, “শিক্ষা দপ্তর কেন কেন্দ্রের টাকা গ্রহণ করবে না?” তাঁর যুক্তি, রাজ্যের আর্থিক সংকটের মধ্যে কেন্দ্রীয় অনুদান গ্রহণে কোনও অসঙ্গতি নেই। যদিও এই সিদ্ধান্তে বামফ্রন্টের শরিক সিপিআই (CPI) প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছে। সিপিআই-এর রাজ্য সম্পাদক বিনয় বিশ্বম (Binoy Viswam) বলেন, “এটি আরএসএস-চালিত এজেন্ডা। আমরা এই সিদ্ধান্তে একমত নই”।
বিরোধী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফও (UDF) এই সিদ্ধান্তকে ‘নৈতিক পরাজয়’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, মুখে বিরোধিতা করে হাতে অনুদান নেওয়া রাজনৈতিক দ্বিচারিতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘পিএমশ্রী’ প্রকল্পের সঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতির একাধিক সুপারিশ জড়িত। ফলে প্রকল্পে অংশগ্রহণ মানেই NEP-এর কিছু অংশ কার্যকর করা। যদিও কেরল সরকার (Kerala Government) বলছে, তারা নিজেদের শিক্ষানীতিকে বিকল্প হিসেবে তুলে ধরবে এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পে অংশগ্রহণ মানেই নীতিগত সমর্থন নয়। ২০২৬ সালের রাজ্য নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত কেরলের রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার।