শীতের কাঁপুনি কমাতে খাবারেই ভরসা, কী খেলে শরীর থাকবে গরম!
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২০:৩০: শীত পড়লেই অনেকের শরীর ঠান্ডায় কাঁপে, হাত-পা বরফের মতো হয়ে যায়, সহজে সর্দি-কাশি ধরছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে শুধু গরম জামাকাপড় নয়—খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। কিছু নির্দিষ্ট খাবার শরীরের ভেতর থেকে তাপ উৎপন্ন করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। রোজের খাদ্যতালিকায় দু-একটি রাখলেই উপকার মিলবে।
১. আদা ও আদা-চা:
আদা প্রাকৃতিক ‘থার্মোজেনিক’ উপাদান। এটি শরীরের রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং ভেতর থেকে উষ্ণতা জোগায়। সকালে বা বিকেলে আদা-চা শীতে খুবই উপকারী।
২. তিল ও তিলের লাড্ডু:
কালো বা সাদা তিল শীতকালে অত্যন্ত উপকারী। এতে রয়েছে ভালো ফ্যাট ও ক্যালসিয়াম, যা শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে। নলেন গুড় বা খেজুর গুড় দিয়ে তৈরি তিলের লাড্ডু শীতের আদর্শ খাবার।
৩. গুড়: গুড় শরীরে তাপ তৈরি করে এবং রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখে। শীতে গুড় খেলে ঠান্ডাজনিত সমস্যা কমে। তবে ডায়াবেটিস থাকলে পরিমাণে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
৪. ড্রাই ফ্রুটস ও বাদাম:
কাজু, বাদাম, আখরোট, কিশমিশ—এই সব শুকনো ফল শরীরের শক্তি বাড়ায় ও উষ্ণতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিন অল্প পরিমাণে খাওয়াই যথেষ্ট।
৫. ঘি ও সর্ষের তেল:
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতে অল্প পরিমাণে ঘি বা সর্ষের তেল শরীরের জন্য ভালো। এগুলি হজমশক্তি বাড়ায় এবং ঠান্ডা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
৬. গরম স্যুপ ও ডাল:
মুসুর, মুগ বা সবজি দিয়ে তৈরি গরম ডাল-স্যুপ শরীর গরম রাখে এবং সহজে হজম হয়। রাতের খাবারে এটি রাখলে উপকার মিলবে।
শীতের দিনে শরীর উষ্ণ রাখা শুধু আরামের বিষয় নয়, সুস্থ থাকারও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই ঠান্ডাজনিত বহু সমস্যা এড়ানো সম্ভব। প্রতিদিনের পাতে আদা, তিল, গুড় বা ড্রাই ফ্রুটসের মতো উপকারী খাবার যোগ করলে শরীরের ভেতর থেকে তাপ তৈরি হয় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও শক্তিশালী হয়। সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত জলপান ও প্রয়োজনমতো বিশ্রাম—এই তিনে মিলেই কড়া শীতেও শরীর থাকবে উষ্ণ, সক্রিয় ও সুস্থ।