বাংলার মানুষ মিলেমিশে থাকতে জানেন, এখানে এলে ভাল থাকি, বললেন কাশ্মীরি শাল বিক্রেতারা

প্রতিবছর অক্টোবর মাসে আসেন। মার্চের শেষে চলে যান। এত বছর ধরে আসার ফলে বাংলা ভাষা বেশ কিছুটা রপ্ত করে ফেলেছেন বছর বত্রিশের কাশ্মীরি যুবক।

January 2, 2022 | 2 min read

Authored By:

Drishti Bhongi Drishti Bhongi

কী করব কাশ্মীরে থেকে। রোজই অশান্তি। এখন আর সেভাবে লোকজনও আসে না। ব্যবসাও নেই। আর ঠান্ডার দিনে বাড়ির বাইরে মানুষ বের হয় না বললেই চলে। একসময় কাশ্মীরে আখরোট, জাফরানের ব্যবসা করলেও এখন আর সেই ব্যবসাও চলে না। এখানে আসি আপনাদের জন্য। শাল, সোয়েটার বিক্রিও হয়। আপনারা মিলেমিশে থাকতে জানেন। সেই টানে আসি বারবার। যে সঙ্গে থাকে সেই তো বন্ধু। সেটাও তো পরিবার—ঝরঝরে বাংলায় বললেন শ্রীনগরের আজিজ আহমেদ। প্রতিবছর অক্টোবর মাসে আসেন। মার্চের শেষে চলে যান। এত বছর ধরে আসার ফলে বাংলা ভাষা বেশ কিছুটা রপ্ত করে ফেলেছেন বছর বত্রিশের কাশ্মীরি যুবক।

আমাদের ওখানে ট্যুরিস্ট নেই ব্যবসাও নেই। তাই এখানে ছুটে আসি। বাংলায় দেখলাম, মানুষ একসঙ্গে থাকতে জানে। সবাই সবার বন্ধু—আজিজের সুরে প্রায় একই কথা বললেন শ্রীনগরেরই বাসিন্দা সওফত আহমেদ। গত দু’-দশকেরও বেশি সময় ধরে বনগাঁ শহরে আসছেন তিনি। নিজের রাজ্যেও দোকান রয়েছে তাঁর। আজিজ, সওফতের মতো প্রায় ৫০ জন যুবক শীতের মরশুমে কাশ্মীর থেকে শাল ও শীতের পোশাক নিয়ে হাজির হয়েছেন। দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন। বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন। তাঁদের সকলের একই কথা, এখানে আনন্দ আছে। ব্যবসা ভাল হয়। আমরাও অনেক ভালো থাকি।

প্রতিবছর শীত এলেই ওঁদের দেখা পাওয়া যায়। কাশ্মীর থেকে শাল ও শীতের পোশাক নিয়ে ওরা হাজির হন এই শহরে। করোনাকালে মানুষ যখন কাজ হারিয়ে দিশাহারা তখনও এ রাজ্যকেই ভরসা করে শহরে চলে আসেন উপত্যকার বাসিন্দারা। এবছরও বনগাঁ শহরে ব্যবসার আশায় এসেছেন কাশ্মীরের অনেক বাসিন্দা। করোনাকালে এবছর ব্যবসা তেমন হচ্ছে না। মুখে হাসি নেই ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদের। তবুও মনে শান্তি আছে। বাড়ির জন্য মন খারাপ করে। তবুও রুটি জোগাড় করতে বাংলায় আসা প্রতিবার। এখানে সাময়িক সময়ের আত্মীয়তাও গড়ে ওঠে মানুষের সঙ্গে। পরের বছর সে বন্ধুত্ব ফের কিছুটা প্রাণ পায়। এভাবেই চলে আসছে বছরে পর বছর। বনগাঁর কোনও মিনি হয়তো তার কাশ্মীরি সোয়েটার কাকুর জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষায় থাকে। তার মা হয়তো সোয়েটার কেনে। আর প্রিয় সোয়েটার কাকু মিনিকে হয়তো কাজু, কিশমিশ উপহার দেয়। বাংলার বন্ধুত্ব এভাবেই কাছে টানে বরফ দেশের উপত্যকাকে। বাংলার মানুষ নিজেরা মিলেমিশে থাকে। আর এভাবেই দূরের মানুষদেরও নিজের সঙ্গে জড়িয়ে নেয়। আজিজরা তাই আজও আসে। আর, আবার আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায় তাদের মিনিদের।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen