তিন সপ্তাহে ছয় হত্যা! বাংলাদেশে জারি সংখ্যালঘু নিধন, সোমবার রাতে মুদি দোকানের মালিককে কুপিয়ে খুন
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১১:৩৯: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিধন চলছেই। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইউনূসের দেশে খুন হলেন দুই হিন্দু। রবিবার গুলিতে ঝাঁজরা হন সাংবাদিক রান প্রতাপ। আর সোমবার রাতে কুপিয়ে হত্যা করা হল জনৈক মণি চক্রবর্তীকে। এই নিয়ে বাংলাদেশে তিন সপ্তাহের মধ্যে মোট ৬ জন হিন্দুকে হত্যা করা হল। হাসিনার পতনের পর থেকে হিন্দু নির্যাতনের মাত্রা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে।
নিহত মণি চক্রবর্তী নরসিংডি জেলার বাসিন্দা। তাঁর একটি মুদিখানার দোকান ছিল। সোমবার রাত ১০টা নাগাদ নিজের দোকানেই ছিলেন মণি। তখন ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত হন মণি। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। হাসপাতালে নিয়ে গেলে মণিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
উল্লেখ্য, রবিবার বিকেলে যশোর জেলায় খুন হয়েছিলেন এক সংবাদপত্রের সম্পাদক রানা প্রতাপ। বাজারের মধ্যেই আততায়ীদের গুলিতে ঝাঁজরা হন তিনি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কালিমোহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় ২৯ বছরের যুবক অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ২৫ বছরের দীপুচন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুন করে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
৩১ ডিসেম্বর খোকন দাস নামের এক হিন্দু ব্যক্তিকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে উন্মত্ত জনতা। দিনদুয়েক পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। ময়মনসিংহের ভালুকায় খুন হন বজেন্দ্র বিশ্বাস। একটি পোশাক কারখানার ভেতরে নিরাপত্তকর্মীর দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এক সহকর্মী নিরাপত্তাকর্মী ৪২ বছরের ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। এই নিয়ে গত তিন সপ্তাহে বাংলাদেশে হিংসার শিকার হয়েছেন ৬ জন হিন্দু। সম্প্রতি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক বিধবা হিন্দু মহিলাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ইউনূসের শাসনকালে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপরে নির্যাতনের ছবিটা ক্রমেই ভয়ংকর হয়ে উঠেছে।