পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন সোনালি খাতুন, মঙ্গলে সাক্ষাৎ করবেন অভিষেক

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৩:৪৫: ভারতের মাটিতেই পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন সোনালি খাতুন। অবৈধভাবে, বলপূর্বক বাংলাদেশে ডিপোর্ট করা ভারতীয় নাগরিক সোনালি খাতুন আজ, সোমবার বীরভূমের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সমাজ মাধ্যমে এ খবর ভাগ করে নিয়েছেন, তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘এ ঘটনা মানবিকতার জয়’। মঙ্গলবার, বীরভূমে সভা করার কথা রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মঙ্গলেই সোনালি ও তাঁর সদ্যজাত পুত্রের সঙ্গে দেখা করে শুভেচ্ছা জানাবেন অভিষেক, এমনই তিনি জানিয়েছেন সমাজ মাধ্যমে।
X পোস্টে তৃণমূলের সেনাপতি লিখছেন, ‘‘বীরভূমের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে সোনালি খাতুন সুস্থ পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন জানতে পেরে, আমি গভীরভাবে অনুপ্রাণিত এবং আন্তরিকভাবে আনন্দিত। তাঁর উপর যে অবিচার করা হয়েছিল, তার চেয়ে এই আনন্দের মুহূর্তটি আরও গভীর। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্র সরকার তাঁকে বাংলাদেশি হিসাবে মিথ্যে চিহ্নিত করে বলপূর্বক বাংলাদেশে নির্বাসিত করে। তাঁর এই অগ্নিপরীক্ষা ছিল মর্যাদার লঙ্ঘন যা কোনও নাগরিক, বিশেষত একজন গর্ভবতী মাকে সহ্য করতে বাধ্য করা উচিত নয়। তবুও, এই সমস্ত কিছুর মধ্য দিয়ে যাওয়া সোনালি অসাধারণ সাহস এবং দৃঢ়তা দেখিয়েছে।’’ অভিষেক আরও জানান, সোনালির পরিবারের জন্য সব সময় তাঁর প্রার্থনা ও শুভকামনা থাকবে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ আইনি লড়াই ও টানাপড়েনের পর অবশেষে দেশে ফেরেন বীরভূমের সোনালি খাতুন।
দেশের সংসদেও তাঁর মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছিল তৃণমূল। দেশের শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপে এবং কলকাতা উচ্চ আদালতের নির্দেশ কেন্দ্র তাঁদের দেশে ফেরাতে বাধ্য হয়। দেশে ফিরে সোনালি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানান। তাঁর সন্তানের নামকরণ করার অনুরোধও রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি। তবে এখনও বাংলাদেশে আটকে আছেন সোনালির স্বামী এবং প্রতিবেশী সুইটি খাতুনের পরিবার। তাঁদের ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।
প্রসঙ্গত, দিল্লি থেকে সোনালি ও তাঁর স্বামী-সহ মোট ছয়জনকে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে আটক করেছিল পুলিশ। অভিযোগ, জোর করে সীমান্ত দিয়ে তাঁদের বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করে বিএসএফ। বীরভূমের বাসিন্দা হয়েও বাংলাদেশের জেলে কাটাতে হয় অন্তঃসত্ত্বা সোনালিকে। ২০ আগস্ট বাংলাদেশ পুলিশ তাঁদের আটক করে জেল পাঠায়। তাঁরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন। পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোনালি-সহ ছ’জনকে জামিন দেন। সোনালিকে দেশে ফেরাতে কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। আদালতের নির্দেশে গত ৫ ডিসেম্বর, অন্তঃসত্ত্বা সোনালি এবং তাঁর নাবালক সন্তান দেশে ফেরে। তারপর থেকে তাঁর যাবতীয় ভার নেয় রাজ্য সরকার। রাজ্যের হাসপাতালেই সন্তানের জন্ম দিলেন সোনালি।