বাঁশবেড়িয়া হংসেশ্বরী মন্দিরের স্থাপত্যে রয়েছে তন্ত্র ষটচক্রভেদ-তত্ত্ব

মন্দিরের নিত্যপুজোর দায়িত্ব এখনও নৃসিংহদেবের পরিবারের হাতে ন্যস্ত। ভোগগ্রহণের ব্যবস্থাও আছে। সকাল দশটার মধ্যে এসে কুপন কাটতে হবে।

October 24, 2024 | 2 min read

Authored By:

Drishti Bhongi Drishti Bhongi

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি: হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় রয়েছে হংসেশ্বরী মন্দির। সাহিত্যিক নারায়ণ সান্যালের ‘হংসেশ্বরী’ উপন্যাসে রয়েছে মন্দির। মন্দির নির্মাণ করেছিলেন রাজা নৃসিংহদেব। গর্ভধারিণী মৃতা মায়ের আদলে আশমানি নীল গাত্রবর্ণের পদ্মাসনা দেবী কালিকা মূর্তি স্থাপনের চেষ্টায় সংসার ত্যাগ করে ছুটে বেড়াচ্ছিলেন রাজা। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই মহারাজের মৃত্যু হয়। ছোট রানিমা শঙ্করীদেবী, এক ঘুঁটেকুড়ানি থেকে ছোট রানিমার পদমর্যাদায় উন্নীত হয়েছিলেন।

মন্দিরটি তান্ত্রিক সাধনার ষটচক্রভেদের তত্ত্বকে অনুসরণ করে নির্মাণ করা হয়েছে। রাজা রামেশ্বর রায়ের প্রপৌত্র, নৃসিংহদেব মানবদেহের কুলকুণ্ডলিনী তত্ত্বকেই মন্দিরের স্থাপত্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন। মন্দির তৈরির জন্য পাথর আনা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের চুনার থেকে। মন্দিরের মিস্ত্রি-কারিগরদের আনা হয়েছিল রাজস্থানের জয়পুর থেকে। মন্দিরে রাজস্থানের স্থাপত্যশৈলীর বেশ কিছু নিদর্শন লক্ষ্য করা যায়। সামনের ফোয়ারা একসময় গঙ্গার জোয়ার-ভাটার জলে পূর্ণ থাকত। মন্দিরের নিত্যপুজোর দায়িত্ব এখনও নৃসিংহদেবের পরিবারের হাতে ন্যস্ত। ভোগগ্রহণের ব্যবস্থাও আছে। সকাল দশটার মধ্যে এসে কুপন কাটতে হবে।

নীল গাত্রবর্ণের হংসেশ্বরী দেবী সারাবছর দক্ষিণাকালী রূপে পূজিতা হন। গর্ভগৃহে পঞ্চমুণ্ডির আসনের উপরে প্রথমে রয়েছে সহস্রদল নীলপদ্ম। অষ্টদল পদ্মর উপরে ত্রিকোণ বেদির উপরে শায়িত রয়েছেন মহাকাল। মহাকালের হৃদয় থেকে উত্থিত দ্বাদশদল পদ্মের উপরে এক পা মুড়ে অবস্থান করেন দেবী হংসেশ্বরী। বেদি এবং মহাকাল মূর্তিটি পাথরের তৈরি হলেও দেবীমূর্তিটি কিন্তু সম্পূর্ণ নিমকাঠের তৈরি।

দেবী এখানে উগ্রচণ্ডা নন, বরং তিনি শান্ত, স্নিগ্ধরূপা, ত্রিনয়নী, চতুর্ভূজা, খড়্গ ও নরমুণ্ডধারিণী। মন্দির প্রাঙ্গণে রয়েছে নৃসিংহদেবের প্রপিতামহ রাজা রামেশ্বর রায়ের তৈরি অনন্তবাসুদেব মন্দির। মন্দিরের পোড়ামাটির কাজ দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। চারচালা কাঠামোর উপরে একরত্ন বিশিষ্ট মন্দিরটির শিখরের চূড়াটি অষ্টকোণাকৃতি। মন্দিরের তিনদিকে রয়েছে তিন-খিলান শোভিত অলিন্দ। গর্ভগৃহে রয়েছে দু’টি প্রবেশদ্বার। গর্ভগৃহে চারহাতে শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্ম নিয়ে অধিষ্ঠিত পাথরের বাসুদেব মূর্তি। মূর্তির বাম কোণে রয়েছেন নারায়ণ ও ডান কোণে লক্ষ্মী।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen