ভোটার তালিকা সংশোধনে কমিশনের জোড়া পদক্ষেপ, কতটা স্বচ্ছ হবে প্রক্রিয়া?
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৯:০০: ভোটার তালিকা সংশোধন এবং SIR প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কমিশন (Election Commission of India)। ভুয়ো ভোটার (Fake voter) বা সন্দেহজনক নাগরিকত্ব রুখতে এবার প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং ডিজিটাল নজরদারি, উভয় পথেই হাঁটল কমিশন। একদিকে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের বৈধতা যাচাইয়ের চূড়ান্ত ক্ষমতা জেলাশাসকদের হাতে তুলে দেওয়া হলো, অন্যদিকে শুনানির নোটিস প্রদানে স্বচ্ছতা আনতে বিএলও (BLO) অ্যাপে যুক্ত করা হলো ‘লাইভ ফটো’ ফিচার।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকা ‘নো ম্যাপ’ ভোটারদের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই ভোটাররা নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য বহু ক্ষেত্রেই ‘ডোমিসাইল সার্টিফিকেট’ (Domicile certificate) জমা দিয়ে থাকেন। ১৯৯৯ সালের পর থেকে এই শংসাপত্র ইস্যু করার এক্তিয়ার ছিল অতিরিক্ত জেলাশাসক (ADM) এবং মহকুমা শাসকদের (SDO) হাতে। বর্তমানে প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী, এসডিও-রাই ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে ইআরও (ERO) বা ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে নিজেদের দপ্তর থেকে ইস্যু করা শংসাপত্র নিজেরাই যাচাই করবেন কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে ধন্দ তৈরি হয়েছিল।
এই জটিলতা কাটাতে এবং স্বার্থের সংঘাত এড়াতে রাজ্যের ব্যাখ্যার পর দিল্লির নির্বাচন কমিশন কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এখন থেকে জমা পড়া সমস্ত ডোমিসাইল সার্টিফিকেটের বৈধতা যাচাই করবেন সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক বা ডিইও (DEO)-রা। অর্থাৎ, নাগরিকত্বের প্রমাণ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্তরের স্ক্যানিং নিশ্চিত করল কমিশন।
অন্যদিকে, আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু হতে চলা সন্দেহজনক ভোটারদের শুনানি প্রক্রিয়াতেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে কড়াকড়ি আনা হয়েছে। এতদিন সন্দেহভাজন ভোটারদের শুনানির নোটিস দেওয়ার পর BLO-রা কেবল সই করা রিসিভড কপি সিস্টেমে আপলোড করতেন। কিন্তু তাতে অনেক সময় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠত এবং শুনানিতে অনুপস্থিত ভোটাররা দাবি করতেন যে তাঁরা নোটিস পাননি।
এই ‘অজুহাত’ বন্ধ করতে এবার BLO অ্যাপে নতুন আপডেট এনেছে কমিশন। নতুন নিয়মে, নোটিস বিলি করার সময় BLO-কে ভোটার বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ‘লাইভ ছবি’ (Live Photo) তুলে অ্যাপে আপলোড করতে হবে। গ্যালারি থেকে পুরনো ছবি আপলোডের কোনও সুযোগ থাকছে না। কমিশনের মতে, এই ডিজিটাল পদক্ষেপ নোটিস প্রাপ্তির ‘অকাট্য প্রমাণ’ হিসেবে কাজ করবে। প্রশাসনিক ও ডিজিটাল স্তরের সুরক্ষা বলয় ভোটার তালিকায় কতটা স্বচ্ছতা আনতে পারে, সেটাই এখন দেখার।