ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে শুরু হয়েছিল বজবজের সাওবাড়ির পুজো
Authored By:

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৪:১৫: বজবজ পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাওবাড়ির পুজো ১৮৩ বছর আগে অর্থাৎ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে শুরু হয়েছিল। ধারীরাম সাও ছিলেন ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির এক ঠিকাদার। বজবজে গঙ্গার ধার ধরে রাস্তা সহ নানা নির্মাণ কাজের দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। তখন চারপাশে জঙ্গল। লোকজনও হাতেগোনা। একদিন কাজ সেরে ফেরার সময় গঙ্গার ধারে একটি ছোট আকারের দুর্গার মূর্তি পান তিনি। সেটি বাড়িতে নিয়ে আসার পর সেই রাতেই স্বপ্নে দেখা দিলেন দেবী। বলেছিলেন, আমাকে প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু কর।
তারপর থেকেই সূচনা হয় পুজোর। তৃতীয় বছরে মৃৎশিল্পী দেবীর পায়ে আলতা পরাতে ভুলে গিয়েছিলেন। ওই অবস্থায় মূর্তি নিয়ে আসা হয় বাড়িতে। কিন্তু মাকে আলতা তো পরানো হয়নি। কে পরাবেন আলতা? এই প্রশ্ন নিয়ে বাড়ির সকলে যখন উদ্বিগ্ন, তখন ধারীরামকে রাতে স্বপ্নে দেখা দিলেন মা। বললেন, তুই আলতা পরাবি আমাকে। তখন থেকেই বাড়ির ছেলেরা বংশানুক্রমে আলতা পরাচ্ছেন মা দুর্গাকে। বর্তমানে এই পুজো চার পুরুষের হাতে। পুজোর আচার, নিয়ম সবই হয় আগের মতো।
এই বাড়িতে স্থায়ী মন্দির আছে। যেখানে আমাদের পূর্বপুরুষ ধারীরাম সাওয়ের পাওয়া ছোট আকারের দুর্গা রয়েছে। তার পাশেই রয়েছে শালগ্রাম শিলা। মাটির প্রতিমার পুজো এখনও শুরু হয়নি। তবে মন্দিরের ছোট মূর্তির পুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। ন’দিন ধরে চলবে এই পুজো। এখানে চণ্ডীপাঠ হয়। মাটির দুর্গা নিরঞ্জনের পর মন্দিরের এই ছোট মায়ের পুজো ও ভোগ নিবেদন চলে প্রতিদিন। এই বিগ্রহ বিসর্জন হয় না। তাই সকলে বলে, মা থাকেন চিরন্তন।
পুজোর সময় আগে অসুরের পুজোতেও আলাদা সংকল্প হয়। তাঁকে কাপড় দিতে হয়। অসুরের পুজো শেষে দেবী মায়ের পুজো ও ভোগ নিবেদন হয়। শুরু হয় আরতি। এটাই রীতি। পুজোয় তিনদিন মাকে অন্নভোগের সময় গ্লাসে করে দামি সুরা দেওয়া হয়। সন্ধিপুজোর সময় মা থাকেন চামুন্ডা রূপে। তখন এই সুরা মায়ের গায়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয়।