খরা ও বন্যাতেও হবে বাম্পার ফলন! বাংলার চাষিদের জন্য ৪টি জাদুকরী ধানের ভ্যারাইটি আনল রাজ্য

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৬:৩৫: বাংলার কৃষি বিপ্লবে নয়া পালক! রাজ্যের প্রতিকূল আবহাওয়া ও জলবায়ুর সঙ্গে লড়াই করতে সক্ষম, এমন চারটি নতুন উচ্চফলনশীল ধানের ভ্যারাইটি উদ্ভাবন করেছে রাজ্য কৃষি দপ্তর। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে এই খুশির খবর ভাগ করে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই সাফল্যের জন্য তিনি বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, পুরুলিয়ার খরা প্রতিরোধ গবেষণা কেন্দ্র। চুঁচুড়ার ধান গবেষণা কেন্দ্রে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিরলস গবেষণার ফল এই নতুন চারটি প্রজাতি। মূলত রাজ্যের ভিন্ন ভিন্ন ভৌগোলিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই ধানগুলি তৈরি করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ জেলাগুলির জন্য তিনটি বিশেষ প্রজাতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এগুলি হলো– ‘সুভাষিণী’, ‘লছমন্তি’ ও ‘মুসাফির’। এই জাতের ধানগুলি জলের অভাব সত্ত্বেও খরিফ মরসুমে হেক্টর প্রতি ৫২ থেকে ৫৫ কুইন্টাল ফলন দিতে সক্ষম। যা ওই অঞ্চলের কৃষকদের আর্থিক সমৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা নেবে।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের বন্যাপ্রবণ এলাকার কৃষকদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে ‘ইরাবতী’ নামক একটি প্রজাতি। এই ধানের বিশেষত্ব হলো, এটি দীর্ঘক্ষণ জলমগ্ন অবস্থায় থাকলেও পচে বা নষ্ট হয়ে যায় না। পাশাপাশি, শক্তিশালী ঝড়েও এই ধান গাছ হেলে পড়ে না, যা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর হবে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় রাজ্যের কৃষিখাতে গত কয়েক বছরের অগ্রগতির খতিয়ানও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১১ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত কৃষকদের সুবিধার্থে গবেষণার মাধ্যমে মোট ২৫টি নতুন ফসলের প্রজাতি তৈরি করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৫টিই হলো ধানের বিভিন্ন ভ্যারাইটি।
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের কৃষি দপ্তর রাজ্যের আবহাওয়া/ জলবায়ুর উপযোগী চারটি নতুন ভ্যারাইটির উচ্চফলনশীল ধান উদ্ভাবন করেছে।
পুরুলিয়ার খরা প্রতিরোধ গবেষণা কেন্দ্র এবং চুঁচুড়ার ধান গবেষণা কেন্দ্রে দীর্ঘ কয়েক বছরের গবেষণার পর এই প্রজাতিগুলি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। আমি এই…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) January 20, 2026