‘তালিবানি ফতোয়া’, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রাপকদের ঘরে বন্দি করার নিদানে BJP-কে তুলোধোনা তৃণমূলের
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২১:৩০: লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar) প্রাপক মহিলাদের ভোটের দিন ‘ঘরে বন্দি’ করে রাখার নিদান দিয়েছিলেন বিজেপি (BJP) নেতা। সেই মন্তব্যের জেরে সোমবার উত্তাল হল রাজ্য রাজনীতি। বিজেপি নেতা কালীপদ সেনগুপ্তের (Kalipada Sengupta) এই ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে কলাইকুন্ডার মাঠে পাল্টা সভা করল তৃণমূল (TMC)। অন্যদিকে, এই মন্তব্যের জন্য বিজেপি (BJP) নেতাকে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। চাপের মুখে পড়ে শেষমেশ দুঃখপ্রকাশ করেছেন অভিযুক্ত ওই বিজেপি নেতা।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। ঘাটালের দাসপুরে এক জনসভায় বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য কালীপদ সেনগুপ্ত মন্তব্য করেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার নেওয়া স্ত্রীদের ভোটের দিন যেন স্বামীরা ঘরে বন্দি করে রাখেন। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার একই মাঠে সভা করেন তৃণমূল সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) ও বিধায়ক অজিত মাইতি। ঋতব্রতবাবু কালীপদ সেনগুপ্তকে ‘নতুন কালিদাস’ বলে কটাক্ষ করেন এবং একে ‘মধ্যযুগীয় মানসিকতা’ বলে অভিহিত করেন। বিধায়ক অজিত মাইতি (Ajit Maiti) একে ‘তালিবানি ফতোয়া’র সঙ্গে তুলনা করে প্রশ্ন তোলেন, মহিলারা কেন ঘরে তালাবন্ধ থাকবেন?
গঙ্গাসাগর সেতুর শিলান্যাস অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই মন্তব্যের কড়া জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘‘বলছেন লক্ষ্মীদের বাড়ি থেকে বার হতে দেবেন না ভোটের দিন! তাঁদের নাকি বন্দি করে রাখবেন! আমি বললাম, লক্ষ্মীদের তো চেনো না। তারা পাঁচালিও পড়ে, তারা রান্নাও করে। এরা শিল্পও গড়ে ছেলেদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, এরা সৃষ্টিও করে।’’ মমতা আরও বলেন, ‘‘মহিলারা তো কারও মা, কারও বোন। ভুলে গেছো? আজ শাসানি দিচ্ছে, ইজ ইট নট আ ক্রাইম? এত বড় ক্রিমিনাল অফেন্স? মেয়েদের বার হতে দেবেন না?’’ তিনি নারীশক্তির জয়গান গেয়ে জানান, মহিলারা রান্নার পাশাপাশি শিল্পও গড়তে পারেন। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, বয়স ৬০ পার হয়ে গেলেও মহিলারা লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা পাবেন।
বিতর্কের মুখে পড়ে এবং দলের নির্দেশে শেষপর্যন্ত নিজের অবস্থান বদলান কালীপদ সেনগুপ্ত। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানান, তাঁর মন্তব্যে মহিলারা আঘাত পেলে তিনি দুঃখিত ও ব্যথিত।