পাখির চোখ ‘The Nobel Peace Prize’ তাই কি দেশে দেশে যুদ্ধ থামিয়ে বেড়াচ্ছেন ট্রাম্প?
নানা কাজের মধ্যে এখন তিনি দেশে দেশে যুদ্ধ থামিয়ে বেড়াচ্ছেন। কার্যত যুদ্ধ থামানোকে সখে পরিণত করে ফেলেছে মার্কিন প্রেসিডন্ট।
Authored By:

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৬:১৬: ট্রাম্পকে বোঝা দায়! কখন তিনি যে কী করবেন সেটা বোধহয় তিনি নিজেও জানেন না! হোয়াট হাউসের চেয়ারটাও হয়তো চিন্তায় থাকে তাঁকে নিয়ে। নানা কাজের মধ্যে এখন তিনি দেশে দেশে যুদ্ধ থামিয়ে বেড়াচ্ছেন। কার্যত যুদ্ধ থামানোকে সখে পরিণত করে ফেলেছে মার্কিন প্রেসিডন্ট। বিশ্বে দাদাগিরি করে বেড়ানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট চাইছেন কী? শান্তি ফিরিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কার ট্রফি-রুমে তুলছে চাইছেন আমেরিকার রাষ্টপ্রধান?
ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতি:
পহেলগাঁও হামলার হামলার জবাব দিতে ৭ মে মধ্যরাতে পাক-ভূমে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারতীয় সেনা। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়। ১০ মে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ। কিন্তু মাঝে ঢুকে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্প জানান, তিনিই যুদ্ধ বিরতিতে রাজি করিয়েছেন ভারত ও পাকিস্তানকে। ট্রাম্পের পোস্টের পর ভারতীয় সেনা ও বিদেশমন্ত্রক একে একে যুদ্ধবিরতির কথা জানায়। ভারতের দাবি, পাকিস্তানের তরফে প্রথম যুদ্ধবিরতির জন্য আবেদন করা হয়েছিল। অন্যদিকে, মোদী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার আগেই ট্রাম্প হোয়াট হাউসে দাঁড়িয়ে জানান, বাণিজ্য বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি দুই দেশকে যুদ্ধ থামাতে বাধ্য করেছেন।
বিগত এক-দেড় মাস ধরে লাগাতার ভারত-পাক যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব নিয়ে গিয়েছেন ট্রাম্প। উল্টোদিকে, মোদী কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন এতদিন। ট্রাম্পের দাবিকে নস্যাৎ করেননি মোদী। পাকিস্তান কিন্তু ট্রাম্পকেই কৃতিত্ব দিয়েছে। এমনকী শাহবাজ শরীফ নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্যে ট্রাম্পের নাম সুপারিশ করেছেন।
ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধবিরতি:
ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাত শুরু হয়েছিল ১৩ জুন থেকে। এক নাগাড়ে ১২ দিনের সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইজরায়েল এবং ইরান।
প্রসঙ্গত, আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাকালীন ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইজরায়েল। ইরানের চার শীর্ষ সেনাকর্তা এবং ন’জন পরমাণু বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়েছিল হামলায়। পাল্টা হামলা আরম্ভ করে তেহরান। এরই মধ্যে ঢুকে পড়েন ট্রাম্প। বাঙ্কার বাস্টার নিয়ে ইরানে হামলা চালায় আমেরিকা। সংঘাত চলে ২৪ জুন পর্যন্ত। ২৪ জুন ট্রাম্প হঠাৎই ঘোষণা করেন, ইজরায়েল ও ইরান সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছে। যুদ্ধ হবে না। তারপর যুদ্ধ বন্ধ হয়। ইজরায়েলও ট্রাম্পের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কারের দাবি জানিয়েছে।
রাশিয়া- ইউক্রেন:
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়। তারপর থেকে দফায় দফায় যুদ্ধের বহর কমেছে, বেড়েছে। সম্প্রতি রাশিয়ায় ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। তারপর থেকেই আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়েছে রাশিয়া। গত সপ্তাহে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনে কথা হয়। কিন্তু ভারত-পাক, ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ থামানোর দাবি করা ট্রাম্প ফেল পড়েছেন রাশিয়ার ক্ষেত্রে। তিনি জানিয়েছিলেন, ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কিন্তু লাভ হয়নি। পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথার পর ট্রাম্প সাফ বলেন, “আমাদের কথা হয়েছে। অনেক ক্ষণ ধরেই কথা হয়েছে। অনেক কিছু নিয়ে আমরা কথা বলেছি। ইরান নিয়ে এবং ইউক্রেনে যুদ্ধ নিয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু কথাবার্তার পর আমি খুশি হতে পারছি না।” ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির চুক্তি একাধিকার আলোচনা করেছেন ট্রাম্প। প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসকে শ্রদ্ধা জানাতেও জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি।
পাকিস্তান নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পের নাম মনোনীত করলেও তাঁকে ওই সম্মান দেওয়া হবে না বলেই মনে করেন তিনি। কটাক্ষের সুরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, “ওরা আমাকে নোবেল দেবে না। ওটা শুধু উদারবাদীদের দেওয়া হয়।” ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতির পর ট্রাম্প নোবেল কমিটির উদ্দেশে বলেছিলেন, “ওদের রোয়ান্ডার জন্য আমায় নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া উচিত। যদি কঙ্গোর দিকে দেখেন, বা সার্বিয়া, কসোভা (শান্তিপ্রতিষ্ঠায় অবদান) অনেক কিছু বলার মতো আছে। সবচেয়ে বড় (শান্তিপ্রতিষ্ঠার) কাজটা হয়েছে ভারত এবং পাকিস্তানের ক্ষেত্রে। আমার এটা (নোবেল শান্তি পুরস্কার) চার-পাঁচ বার পাওয়া উচিত।” অর্থাৎ রাখঢাক না-রেখেই ট্রাম্প বলে ফেলছেন। কার্যত মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। তাঁর ভাগ্যে নোবেল জুটবে কি-না উত্তর দেবে সময়।