বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দিল United Nations, জানুন কীভাবে

গল্পের শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। বাংলাদেশে না হলেও বাঙালির হাত ধরেই এই অসামান্য অর্জনের পথে যাত্রা শুরু হয়েছিল।

February 21, 2025 | 2 min read

Authored By:

Drishti Bhongi Drishti Bhongi

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি: মোদের গরব মোদের আশা , আ-মরি বাংলা ভাষা। বাংলা ভাষা আজ বিশ্বে সমাদৃত। ২১শে ফেব্রুয়ারি মানে বাঙালির চেতনা, ভাষার জন্য আত্মত্যাগের দিন। এই দিনেই বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর সকালে UNESCO বাংলাদেশের প্রস্তাবের স্বীকৃতি প্রদান করে, যা ছিল ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষাশহীদদের সর্বোচ্চ ত্যাগের প্রতি বিশ্বে আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শন। জাতিসংঘের সেই স্বীকৃতির পর থেকে দিনটি পালন করে আসছে পৃথিবীর নানা ভাষাভাষীর মানুষ।

স্বীকৃতির পথে যাত্রা

গল্পের শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। বাংলাদেশে না হলেও বাঙালির হাত ধরেই এই অসামান্য অর্জনের পথে যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২৯ মার্চ কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার মাদার ল্যাঙ্গুয়েজ লাভার্স অব দ্য সোসাইটি জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব তুলে ধরেন। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম দেশ থেকে অনেক দূরে থেকেও বাঙালির আত্মত্যাগকে স্বীকৃতি দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেই প্রস্তাবনায় স্বাক্ষর করেছিলেন ভিন্ন ভাষাভাষী ১০ জন সদস্য। তবে জাতিসংঘের পরামর্শ অনুযায়ী বিষয়টি নিয়ে প্যারিসে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংগঠন ইউনেস্কোতে যোগাযোগ করা হয়।

এরপর পেরিয়ে যায় এক বছর। কোনো সিদ্ধান্ত না আসলেও কানাডাপ্রবাসী আরেক বাঙালি আবদুস সালামকে নিয়ে ইউনেস্কোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন তিনি।

১৯৯৯ সালের ৩ মার্চ আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার পথে যাত্রা শুরু করেন রফিকুল ইসলাম। ইউনেস্কো থেকে জানানো হয়, বিষয়টি ইউনেস্কোর সাধারণ পরিষদের আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে হলে কয়েকটি দেশ থেকে প্রস্তাব পেশ করতে হবে।

বিষয়টি তেমন সহজ ছিল না। কারণ এর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ছিল সাধারণ পরিষদের সভা। তাই রফিকুল ইসলাম যোগাযোগ করেন বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে। বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী সবকিছু উপেক্ষা করে ইউনেস্কোর সদর দফতরে পাঠিয়ে দেন সেই ঐতিহাসিক প্রস্তাব। যেটি প্যারিসে পৌঁছায় ৯ সেপ্টেম্বর।

স্বীকৃতির সেই দিন

স্থানীয় ‍ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা প্রতিকূলতা পার হয়ে অবশেষে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর একুশে ফেব্রুয়ারি পায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বিশেষ সেই মর্যাদা। ইউনেস্কোর সেই অধিবেশনে এই দিবস পালনের মূল প্রস্তাবক ছিল বাংলাদেশ ও সৌদি আরব। তবে সমর্থন ছিল পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেরই।

২০০০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি সর্বপ্রথম ইউনেস্কোর প্রধান কার্যালয় প্যারিসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি পালন করা হয়। সেবছর থেকে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোতেও মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen