মোদীর সভায় আদিবাসীদের উন্নয়ন তহবিলের অর্থে ২ কোটি টাকার শিঙাড়া খেল VIP-রা, RTI-তে পর্দা ফাঁস!

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১২:৫১: আদিবাসী উন্নয়নের টাকায় ভিআইপিদের উদরপূর্তি! ঘটনাটি ঘটেছে খোদ প্রধানমন্ত্রী মোদীর রাজ্যে। মোদীর সভাতেই ঘটল এ ঘটনা। ১৫ নভেম্বর গুজরাতের নর্মদা জেলায় বীরসা মুন্ডার জন্মসার্ধশর্তবর্ষ উপলক্ষ্যে ‘জনজাতীয় গৌরব দিবস’ আয়োজিত হয়। খোদ মোদী ছিলেন সেখানে। তাতে খরচ হয়েছে মোট ৫০ কোটি টাকা। আদিবাসী উন্নয়ন তহবিল থেকে ওই টাকা ব্যয় করেছে বিজেপিশাসিত গুজরাত সরকার। সেখানে ভিআইপি অতিথিদের শিঙাড়া খাওয়াতেই ব্যয় হয়েছে ২ কোটি টাকা! আরটিআই-এ আবেদনের প্রেক্ষিতে সমানে এসেছে এই তথ্য।
আম আদমি পার্টির (আপ) সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দৌলতে এই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। তথ্যের অধিকার আইনে এই বিস্ফোরক তথ্য সমানে এনে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘‘আদিবাসীদের উন্নয়নের অর্থে এই ২ কোটি টাকার শিঙাড়া কারা খেল? ওই টাকায় আদিবাসী এলাকায় বহু স্কুল-হাসপাতাল তৈরি করা যেত!’’
প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাজ্যে উন্নয়ন না-হওয়া নিয়ে বিজেপি বিধায়করাও ক্ষিপ্ত বলে দাবি করেছেন কেজরিওয়াল। মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলকে সম্প্রতি এ বিষয়ে চিঠি লিখেছেন ভদোদরার পাঁচজন গেরুয়া বিধায়ক। তাঁদের অভিযোগ, আমলারা এলাকার উন্নয়নকে অবহেলা করছেন। সেই প্রসঙ্গ কেজরিওয়াল বলেন, তিনি শুনেছিলেন; চিঠির উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী না-কি বলেছেন আমলারা তাঁর (মুখ্যমন্ত্রীর) কথাও শোনেন না।
উল্লেখ্য, ১৫ নভেম্বরের সভার খরচ জানতে আরটিআই আইনে আবেদন জানিয়েছিলেন গুজরাতের দেদিয়াপাড়ার আপ বিধায়ক চৈতার বাসবার। নর্মদা জেলা প্রশাসনের ব্যয়ের পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, আদিবাসী উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ থেকে যাবতীয় ব্যয় করা হয়েছে। সোমবার ভদোদরায় এক জনসভায় কেজরিওয়াল বলেন, ‘‘মোদীর সভার প্যান্ডেল-প্যাভিলিয়ন, মূল মঞ্চের ছাউনি, মঞ্চ তৈরির খরচ, অস্থায়ী শৌচাগার, এমনকি সভাস্থলে লোক আনতে বাসের পিছনে কোটি কোটি টাকা জলের মতো খরচ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষ্যে এই বিপুল খরচ তো ভালো ব্যাপার। চৈতারের আরটিআইয়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে ২ কোটি টাকার শিঙাড়া কেনার বিষয়টি জানতে পেরেছি। প্রধানমন্ত্রী শিঙাড়ার পিছনে ২০ কোটি বা ৩০ কোটি টাকা খরচ করতেই পারেন। তবে সেই টাকা কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে আসবে না কেন?’’
এর পাশাপাশি আদিবাসী এলাকায় উন্নয়নের বেহাল অবস্থার কথাও তুলে ধরেছেন আপ সুপ্রিমো। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘‘বছর বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়। তবু আদিবাসী প্রভাবিত এলাকাগুলি সবচেয়ে পিছিয়ে কেন? আমরা যদি সঠিকভাবে এই অর্থ ব্যয় করতে পারি, তবে সুন্দর সুন্দর হাসপাতাল, স্কুল বানানো যায়। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়া যায়। রাস্তাও তৈরি করা যায়। কিন্তু সত্যিটা হল, সেই টাকা কখনো সেখানে পৌঁছায় না!’’ বলাবাহুল্য শিঙাড়া খাওয়ার পরিসংখ্যান খোদ মোদী রাজ্যেই অস্বস্তিতে পড়ল বিজেপি।