শিয়রে ভোট, ‘ক্লিন ইমেজ’ প্রার্থীই তৃণমূলের অগ্রাধিকার, ঝাড়াই-বাছাইয়ে কারা বাদ পড়তে পারেন?

January 15, 2026 | 2 min read
Published by: Raj

ভোটের উত্তাপ বাড়ছে বঙ্গে। ফেব্রুয়ারিতেই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে কমিশন। জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলায় জেলায় ঘুরছেন। রাজ্যের শাসক দলের কারা টিকিট পাবেন, কারা পাবেন না, এটাই এখন আলোচনার বিষয়। সব দলই নিজেদের মতো করে প্রার্থী তালিকা ঠিক করছে। ঝাড়াই-বাছাই চলছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকার ক্ষেত্রে প্রবীণ, তরুণ, তারকা, চিকিৎসক, শিক্ষক, অধ্যাপক, আমলা, রাজনীতিকের মেলবন্ধন দেখা যেতে পারে। বার বার তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলছেন, দুর্নীতি ইস্যুতে তৃণমূলের নীতি জিরো টলারেন্স। নূন্যতম অভিযোগ থাকলেও দল ঠাঁই হবে না, সাফ জানিয়েছেন মমতা, অভিষেক। শিক্ষক দুর্নীতিতে অভিযুক্ত তথা বিচারধীন দলের তদানিন্তন মহাসচিব, রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে দলের পদ, রাজ্যের মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে ফেলতে বিলম্ব করেনি তৃণমূল। বার্তা খুব স্পষ্ট, অভিযোগ উঠলে মাশুল দিতেই হবে।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থারা একাধিক সময়ে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধিকে আটক করেছে। বন্দি করেছে। অনেকে জামিনে মুক্তিও পেয়েছেন। ভোট আসছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়, শারীরিকভাবেও শক্ত-সমর্থ্য। তাঁরা কি ফের টিকিট পাবেন?

তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় সূত্রে খবর, দুর্নীতির অভিযোগে জেল খেটেছেন, বিচারে দোষী প্রমাণিত না-হলেও; তাঁদের আর টিকিট দেওয়ার পথে হাঁটবে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

২০২২ সালের ২৩ জুলাই শিক্ষক নিয়োগ ‘দুর্নীতি’ মামলায় পার্থকে গ্রেপ্তার করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ৩ বছর ৩ মাস পর তিনি জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক বাড়ি ফিরেই ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছিলেন। শোনা যাচ্ছে, তাঁকে আর টিকিট দেওয়ার কথা ভাবছেন না তৃণমূলের শীর্ষনেতারা।

পলাশীপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকে হেপাজতে নিয়েছিল ইডি। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর মানিককে গ্রেপ্তার করে ইডি। ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তাঁর জামিন মঞ্জুর হলে তিনি মুক্তি পান। তাঁরও ফের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা এখনও বন্দি। নিয়োগ মামলায় ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল জীবনকৃষ্ণকে গ্রেপ্তার করেছিল সিবিআই। ১৩ মাস পর তিনি সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পান। জেল থেকে বেরিয়ে বিধানসভাতেও গিয়েছিলেন জীবনকৃষ্ণ। তারপর ফের তিনি গ্রেপ্তার হন ইডির হাতে। ফলে জেলবন্দি জীবনের আসন্ন ভোটে টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ইডির হাতে। রেশন দুর্নীতি মামলায় জামিন পেয়ে এখন বালু মুক্ত (জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এই নামেই রাজনৈতিক মহলে পরিচিত)। ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। ১৪ মাস পরে জামিনে মুক্তি পান, ততদিনে তাঁর মন্ত্রিত্ব চলে গিয়েছে। জেলমুক্তির পর তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। মিছিল, মিটিং, বিধানসভা সর্বত্র তাঁকে দেখা যায়। সম্প্রতি দলের তরফে জোড়া বিধানসভার পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। ফলে তাঁর টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে শারীরিকভাবে তিনি অসুস্থ। কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগ রয়েছে। ফলে তাঁর ভোটে লড়ার সম্ভাবনা অতিক্ষীণ।

জনমানসে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি আছে, এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিগত পঞ্চায়েত ভোট থেকে দেখা যাচ্ছে, গ্রহণযোগ্যতা এবং স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে; এমন প্রার্থীদেরই টিকিট দিচ্ছে বাংলার শাসক দল। লোকসভা ভোটেও এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও একই পথে এগোবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

 

 

 

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen