যুদ্ধের ইঙ্গিত পিৎজায়! ভেনেজুয়েলা হামলার রাতে পেন্টাগন সংলগ্ন এলাকায় খাবারের দোকানের ভিড়েই লুকিয়ে রহস্য?

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১২:৪৫: আমেরিকার ভেনেজুয়েলা অভিযানের সময় ওয়াশিংটনের কাছেই একটি অদ্ভুত ঘটনা ফের আলোচনায়। শনিবার গভীর রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বড়সড় সামরিক হামলা চালানোর সময় পেন্টাগনের কাছে অবস্থিত একটি পিৎজা আউটলেটে আচমকা বেড়ে যায় ভিড় ও বিক্রি। আন্তর্জাতিক রাজনীতি পর্যবেক্ষকদের মতে, পেন্টাগনের আশপাশের ফাস্ট-ফুড আউটলেটগুলিতে হঠাৎ ব্যস্ততা সাধারণত ইঙ্গিত দেয়—মার্কিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম ব্যস্ততায় রয়েছে এবং উচ্চপর্যায়ের সামরিক কার্যকলাপ চলছে।
‘Pentagon Pizza Report’ নামে এক্স ( টুইটার) অ্যাকাউন্ট জানায়, শনিবার ভোর ২টা ৪ মিনিট নাগাদ পেন্টাগনের কাছের ‘Pizzato Pizza’-তে অস্বাভাবিক সংখ্যক ক্রেতা ঢুকতে দেখা যায়। পরবর্তী পোস্টে বলা হয়, রাত ৩টা ৫ মিনিট পর্যন্ত এই ব্যস্ততা বজায় ছিল। তবে প্রায় দেড় ঘণ্টা পরই চিত্র বদলে যায়। ভোর ৩টা ৪৪ মিনিটে ওই পিৎজা আউটলেট কার্যত ফাঁকা হয়ে যায়, ক্রেতা প্রায় শূন্যে নেমে আসে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছরের জুন মাসেও একই রকম ঘটনা ঘটেছিল, যখন ইজরায়েল ‘অপারেশন লায়ন’-এর আওতায় ইরানের উপর বিমান হামলার পরিকল্পনা করছিল।
এদিকে একই সময়ে ভেনেজুয়েলায় ঘটে যায় নাটকীয় মোড়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ‘Truthout’-এ দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে “গ্রেফতার করে দেশ থেকে বহিষ্কার” করা হয়েছে। ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলায় এই বড়সড় সামরিক অভিযান মার্কিন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে মার-এ-লাগোতে সাংবাদিক সম্মেলন করা হবে।
ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই কারাকাসে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শহরের বিভিন্ন অংশে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। দক্ষিণ কারাকাসের একটি বড় সামরিক ঘাঁটির আশপাশে বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
১৯৮৯ সালে পানামায় মার্কিন হস্তক্ষেপের পর এই প্রথম কোনও লাতিন আমেরিকার দেশে সরাসরি সামরিক অভিযান চালাল যুক্তরাষ্ট্র। ঘটনার পর জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ভেনেজুয়েলা সরকার এই হামলাকে “চরম সামরিক আগ্রাসন” বলে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে।