নেতিবাচক শক্তি দূরে রাখতে চৌকাঠে কোন কোন জিনিস রাখবেন?

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৬:২০: আপনার বাড়ির প্রধান দরজা বা চৌকাঠ শুধুই যাতায়াতের পথ নয়—এটি আপনার গৃহের শক্তির প্রবেশদ্বার, এক ধরনের এনার্জি গেটওয়ে। বাইরে ছড়িয়ে থাকা কোলাহল, ঈর্ষা, কুদৃষ্টি ও নেতিবাচক শক্তি প্রথমেই এই পথ ধরেই ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে। আধ্যাত্মিক দর্শনে বলা হয়, একটি বাড়ি আসলে একটি জীবন্ত মন্দির—আর সেই মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা করার দায়িত্ব গৃহকর্তা ও গৃহিণীরই।
প্রাচীন আচার ও ধ্যানজ্ঞান অনুযায়ী, একটি অত্যন্ত সহজ কিন্তু শক্তিশালী উপায় রয়েছে, যা নিয়মিত মানলে ঘর থেকে দূরে রাখা যায় দুর্ভাগ্য ও অশুভ শক্তিকে।
কী করবেন?
একটি ছোট লাল কাপড়ের টুকরোয় এক চিমটি সৈন্ধব লবণ (রক সল্ট) অথবা ফিটকিরি বেঁধে নিন। সেটি আজই আপনার বাড়ির প্রধান দরজার আড়ালে কিংবা চৌকাঠের কোনো এক কোণায় রেখে দিন।
শুনতে সাধারণ মনে হলেও, আধ্যাত্মিক বিশ্বাসে এটি মোটেই সাধারণ কোনো বস্তু নয়—এটি কাজ করে এক শক্তিশালী এনার্জি ফিল্টার হিসেবে।
কেন এটি কার্যকর বলে মনে করা হয়?
নেতিবাচক শক্তি শোষণকারী:
যেমন একটি স্পঞ্জ জল শুষে নেয়, তেমনই সৈন্ধব লবণ বা ফিটকিরি চারপাশের অশুভ শক্তি, ঈর্ষা ও কুদৃষ্টিকে নিজের মধ্যে টেনে নেয় বলে বিশ্বাস।
অদৃশ্য সুরক্ষা বলয়:
এই ছোট পুঁটলি আপনার ঘর ও পরিবারের চারপাশে তৈরি করে একটি অদৃশ্য আধ্যাত্মিক প্রাচীর, যা দুর্ভাগ্যকে চৌকাঠ পেরোতে বাধা দেয়।
শান্তি ও ইতিবাচকতার প্রবাহ
যাঁরা আপনার ঘরে প্রবেশ করেন, তাঁদের মানসিক ক্লান্তি ও নেতিবাচক ভাবনা যেন বাইরে থেকেই ঝরে যায়—আর ঘরে প্রবেশ করে কেবল শান্তি ও শুভ শক্তি।
মনে রাখবেন
প্রতি ২১ বা ৩০ দিন অন্তর লবণ/ফিটকিরি বদলে ফেলা ভালো।
পুরোনো পুঁটলি বাড়ির বাইরে মাটিতে পুঁতে বা প্রবাহমান জলে ভাসিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
কাজটি করার সময় মনে মনে ঘরের শান্তি ও কল্যাণের প্রার্থনা করলে বিশ্বাস অনুযায়ী ফল আরও দৃঢ় হয়।
সব শেষে মনে রাখবেন, ঘরের প্রকৃত শক্তি আসে বিশ্বাস, পবিত্র চিন্তা আর ইতিবাচক মানসিকতা থেকে। সৈন্ধব লবণ বা ফিটকিরি কেবল একটি মাধ্যম—আসল কাজ করে আপনার শুভ কামনা ও সচেতনতা। প্রতিদিন চৌকাঠ পেরোনোর সময় যদি মনে মনে প্রার্থনা করেন, “আমার ঘরে যেন কেবল শান্তি, সুস্থতা ও সৌভাগ্য প্রবেশ করে”, তাহলেই সেই শক্তি ধীরে ধীরে আপনার গৃহকে এক নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত করবে।
আপনার বাড়ি হয়ে উঠুক একটি আলোকিত মন্দির, যেখানে দুর্ভাগ্যের কোনো স্থান নেই—শুধু থাকুক শান্তি, ভালোবাসা আর আশীর্বাদের নীরব প্রবাহ।