অবসরের পর কী করবেন ঝুলন? কী বলছেন তাঁর পরিবার ও প্রাক্তন ক্রিকেটাররা?

শুধু বোলিং নয়, ব্যাট হাতেও দলকে ভরসা জুগিয়ে গিয়েছেন। সামলেছেন অধিনায়কত্বও, হয়ে উঠেছেন প্রকৃত অলরাউন্ডার। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চির এই বঙ্গতনয়া বদলে দিয়েছেন লড়াইয়ের সংজ্ঞা।

September 25, 2022 | 2 min read

Authored By:

Drishti Bhongi Drishti Bhongi
ক্রিকেটজীবনের শেষ ম্যাচে ঝুলন গোস্বামী। ছবি রয়টার্স

দীর্ঘ ২০ বছরের বর্ণময় কেরিয়ারকে বিদায় জানালেন ঝুলন গোস্বামী (Jhulan Goswami)। ঐতিহাসিক লর্ডসেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে চিরবিদায় জানালেন তিনি। বহু প্রতিকূলতাকে জয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মহিলা ক্রিকেটের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন বাংলার ঘরের মেয়ে। শুধু বোলিং নয়, ব্যাট হাতেও দলকে ভরসা জুগিয়ে গিয়েছেন। সামলেছেন অধিনায়কত্বও, হয়ে উঠেছেন প্রকৃত অলরাউন্ডার। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চির এই বঙ্গতনয়া বদলে দিয়েছেন লড়াইয়ের সংজ্ঞা। অবসরের পর কী করবেন ঝুলন? তাঁকে কী কোচের ভূমিকায় দেখা যাবে? সে সব জল্পনা চলছে। কিন্তু কোন ভূমিকায় ঝুলনকে দেখতে চাইছে তাঁর পরিবার? কী বলছেন বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটাররা?

ঝুলনের বোন ঝুম্পা গোস্বামী জানাচ্ছেন, ছোট থেকেই ক্রিকেট নিয়ে পাগল ছিলেন তার দিন। দিদির পরিশ্রমের কথাও জানান তিনি। ঝুম্পা চান মেয়েদের ক্রিকেটের উন্নতিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড তার দিদিকে ব্যবহার করুক। তিনি নিশ্চিত, তার দিদি যে কাজ করবেন সেখানেই নিজের একশো শতাংশ দেবেন। ঝুম্পা জানিয়েছেন, তার দিদি কাতলা মাছের পেটি খেতে খুব ভালোবাসে। বাড়ি ফিরে মায়ের হাতে তৈরি ভাত, ডাল, আলুভাজা আর কাতলা মাছ খেতে চেয়েছে ঝুলন।

গার্গী বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণা উঠে এসেছে, ঝুলনের লড়াইয়ের কথা। ভিড় ট্রেনে করে এসে দিনের পর দিন প্র্যাক্টিস করতেন তিনি। প্রত্যেক সফল মানুষের মতোই ঝুলনের সাফল্যের পিছনেও রয়েছে পরিশ্রম আর নিষ্ঠা। ২০০০ সালে ঝুলনকে প্রথম দেখেছিলেন গার্গী দেবী। ২০০৬ সালে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট বোর্ডের অনুমোদন পাওয়ার পরেই ঝুলনের উত্থানের শুরু। ২০০৯ সালে নির্বাচক থাকার সময় ঝুলনকে তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন। গার্গী দেবী চান, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এই কিংবদন্তীকে কাজে লাগাক। তার মতে, পেস বোলিং বিভাগটার দায়িত্ব ঝুলনের হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। তার কথায়, কেবল বোলিং নয়, ঝুলন ভাল ব্যাটিংও করতেন, একেবারে প্রকৃত অলরাউন্ডার। উঠতি ক্রিকেটারদের কাছে ও উদাহরণ হয়ে থাকবে। সিএবি আগেই ওকে মেন্টর হিসেবে নিয়োগ করেছে। এবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড যদি ওকে ব্যবহার করলে মেয়েদের ক্রিকেট অনেক উপকৃত হবে। আরেক নির্বাচক তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার মিঠু মুখোপাধ্যায় ঝুলনের আগামী জীবনের জন্যে শুভকামনা জানিয়েছেন।

ঝুলনের এক অনুজা সতীর্থ প্রিয়াঙ্কা রায়ের কথায়, ঝুলন তাদের সবার অনুপ্রেরণা। তার মতে, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট আজ যে জায়গায় এসেছে, তার কৃতিত্ব ঝুলন গোস্বামী এবং মিতালি রাজেরা। এদের জায়গা কেউ নিতে পারবে না। কারণ, এরা ভারতীয় ক্রিকেটের ক্রিকেটের কিংবদন্তী। মাঠে, মাঠের বাইরে বরাবর ঝুলন তাদের গাইড করেছেন। ক্রিকেট হোক বা ক্রিকেটের বাইরে এখনও কোনও কিছু সমস্যা হলে তিনি পরামর্শ ঝুলনের নেন। ব্যস্ত শিডিউলেও ঠিক সময় দেন তিনি। জাতীয় দলে একসঙ্গে খেলার আগে বাংলা আর এয়ার ইন্ডিয়াতে প্রিয়াঙ্কা ও ঝুলন একসঙ্গে খেলেছেন।

তথ্য ঋণ: টিভিনাইন বাংলা

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen