কোন কোন সাংসদকে ২০২৬-র বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট দিতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস?

January 18, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১০:০০: ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে। বাংলার মসনদে বসবে কে? চতুর্থবারের জন্য মমতার Comeback দেখবে বাংলা? না-কি বিজেপির বাংলা দখলের স্বপ্ন পূরণ হবে? রাজনৈতিক দলগুলির তরফে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। সভা, মিছিল চলছে, পাশাপাশি প্রার্থী বাছাই সেরে ফেলা হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, দলের কয়েকজন সাংসদকে বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের ময়দানে নামাতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের হয়ে দুর্দান্ত কাজ করছেন, এমন কয়েকজন সাংসদকে টিকিট দিতে পারে বাংলার শাসক দল।

দিল্লি থেকে বঙ্গ রাজনীতির ভোটের বাইশ গজে এসে পড়তে পারেন কারা?

সামিরুল ইসলাম:
প্রান্তিক, নিপীড়িত মানুষের লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধি হয়ে কোচবিহার থেকে কাঁথি ছুটে বেড়ান সামিরুল। বীরভূমের কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা সামিরুল ইসলামকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গ পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন বোর্ডের শীর্ষ পদও দেওয়া হয়েছে সামিরুলকে। পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার বারবার সরব হন তিনি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেন। সোনালি খাতুনকে দেশে ফেরানো হোক, রাজ্যসভায় কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি বা সারি ও সারনা ধর্মকে মর্যাদা দেওয়ার দাবি, প্রতি ক্ষেত্রেই দরিদ্র, প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন সামিরুল। এবার তাঁকে রাজ্যে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে চাইছে তৃণমূল।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়:
তুখোড় বক্তা, একই সঙ্গে দুর্ধর্ষ সাংগঠনিক দক্ষতার অধিকারী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতা ঋতব্রত এই মুহূর্তে রাজ্যসভার সাংসদ। গত আড়াই বছর ধরে তিনি দলের শ্রমিক সংগঠনে কাজ করছেন। তাঁর হাত ধরেই চা বাগানগুলিতে তৃণমূলের একাধিক ইউনিয়ন একত্রিত হয়েছে। শক্তিশালী ইউনিয়ন গড়ে উঠেছে। চা বাগান অধ্যুষিত মাদারিহাট বিধানসভা উপ নির্বাচনে ২০২৪ সালে তৃণমূল যার ফসল ঘরে তুলেছে। হলদিয়া হোক বা দুর্গাপুর একের পর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের ইউনিয়ন শক্তি বাড়াচ্ছে তাঁর নেতৃত্বে। সংসদেও খুব সক্রিয় ঋতব্রত। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রকাশ চিক বরাইক:
আদিবাসী পরিবারের সদস্য ও চা শ্রমিক প্রকাশ চিক বরাইককে ২০২৩ সালে রাজ্যসভা পাঠায় তৃণমূল কংগ্রেস। এক সময় নিজের হাতে চা বাগানের পাতা তুলতেন প্রকাশ, সেখান থেকে রাজ্যসভা! তাঁর সফর রূপকথার গল্পের মতো। তিনিই রাজ্যসভার দরিদ্রতম সাংসদ। উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ারের জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির পদে থাকা প্রকাশের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা রয়েছে। রাজ্যসভায় প্রশ্ন তোলা থেকে দিল্লির রাজপথে ধরনা, সবেতেই দলের প্রথম সারির সৈনিক প্রকাশ। প্রকাশকে চা বাগান অধ্যুষিত কোনও আসনে প্রার্থী করতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস।

পার্থ ভৌমিক:
নেতার পাশাপাশি পার্থ এখন জনপ্রিয় অভিনেতা। লোকসভা ভোটে বারাকপুর থেকে জয়ী হওয়ার আগে তিনি ছিলেন রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। মন্ত্রিত্বের সঙ্গে সঙ্গে জেলার রাজনীতিতেও তিনি উজ্জ্বল। সন্দেশখালির সময়তেও ক্রাইসিস ম্যানেজার হিসাবে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল। জনসংখ্যার নিরিখে উত্তর ২৪ পরগনা বাংলার বৃহত্তম জেলা, সে জেলায় যুব রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় পার্থর। সেখান থেকে জেলার সাংগঠনিক শীর্ষপদ সামলেছেন, দীর্ঘদিনের বিধায়ক, তাঁকেই আবার বিধানসভায় দাঁড় করতে পারে তৃণমূল।

মিতালী বাগ:
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী থেকে লোকসভার সাংসদ হয়েছে মিতালী বাগ। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে দিল্লিতে বঙ্গবাসীর দাবি তুলে ধরছেন মিতালী। আরামবাগের সাংসদ অত্যন্ত গরিব পরিবারের সন্তান। প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করে তাঁর বেড়ে ওঠা।
পড়াশোনায় ভাল ছিলেন। ছাত্র পড়িয়ে নিজে মাস্টার্স করেন। টাকার অভাবে মাস্টার্সের পর আর পড়াশোনা এগোতে পারেননি। তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী মিতালী ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হন। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তিনি জেলা পরিষদের সদস্য হন। সাংসদ হিসাবে আরামবাগবাসীর হয়ে একদিনে তিনি সওয়াল করছেন, পাশাপাশি বাংলার হকের দাবিও জানাচ্ছেন। হুগলির কোনও কেন্দ্র থেকে মিতালীকে টিকিট দিতেই পারে তৃণমূল।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen