ঋত্বিক ঘটকের ছবিকে কি সত্যিই সিএএ সমর্থনে ব্যবহার করা যথার্থ
একটি রাজনৈতিক দল তাদের আনা আইনের যথার্থতা বোঝাতে ঋত্বিক ঘটকের সিনামার কথা ব্যবহার করছে। সত্যিই কি ঋত্বিক ঘটকের সিনেমা সিএএ-এর সমর্থনের জন্যে যথার্থ?
ঋত্বিক ঘটকের জীবনে একটু উঁকি মারলেই দেখা যায় জীবনময় দেশ ভাগের অভিশাপ বয়ে বেড়াতে হয়েছে তাকে। তাঁর পরিবার রিফিউজি হয়ে প্রথমে ঢাকা থেকে মুরশিবাদ তারপর কলকাতায় বসতি গড়ে। রিফিউজি হওয়ার আর এক অভিশাপ যক্ষার প্রকোপে পড়ে পরিবার। অভাব অনটনে প্রায় বিনা চিকিৎসায় মারা যান নির্দেশক।
নিজের জীবদ্দশায় রিফিউজি ট্রিলজির মাত্র একটি ছবি মেঘে ঢাকা তারার সফলতা দেখে যেতে পেরেছেন। বাকি সব ছবিকেই ভয়ঙ্কর সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। তার সব ছবি জুড়েই দেশ ভাগের দুর্দশার কথা বলা হয়েছে। “দাদা আমি বাঁচতে চাই” যেই সংলাপটিকে ব্যবহার করে রাজনীতি করতে চাইছে বিজেপি যুব মোরচা তাতেও দেশ ছেড়ে আসার দুর্ভোগই বোঝানো হয়েছে।
সংশোধনী নাগরিকত্ব বিলে কিছু মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়া হলে তার থেকে অনেক গুন মানুষকে ছাড়তে হবে দেশ। ঋত্বিক ঘটক যার নিজের জীবন তছনছ হয়ে গেছে দেশ ভাগে, তিনি যদি আজ থাকতেন পারতেন কি এই পুনরাবৃত্তিকে সমর্থন করতে? হয়তো না। তার কোন ছবিও তা করে না। অন্তত তাঁর পরিবার এমন দাবী করেছে।