উত্তরবঙ্গ বিভাগে ফিরে যান

লকডাউনে কাজ গেছে, বাচ্চাদের সেদ্ধ কচুপাতা খাওয়াচ্ছেন মা-বাবা

April 11, 2020 | 2 min read

লকডাউনের জেরে বন্ধ বেশিরভাগ জায়গার বাজার, দোকানপাট। বেশ কিছু জায়গায় প্রশাসনের পাঠানো ত্রাণের ওপর ভরসা করেই দিন কাটাতে হচ্ছে অধিবাসীদের। তেমনই খবর পাওয়া গিয়েছে, ত্রাণ না পৌঁছানোয় কচুপাতা খেয়েই দিন কাটাচ্ছে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরের বেশ কিছু পরিবার৷ সরকারি বা বেসরকারি কোনও ত্রাণ তাঁদের কাছে পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ। 

লকডাউনে কর্মহারা হয়ে আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের গড়গড়ি, বাইশাবাগান এলাকার বাসিন্দারা৷ আর্থিক অভাবে জুটছে না খাদ্য৷ এই পরিস্থিতিতে কচুপাতা খেয়েই দিন কাটাতে হচ্ছে ওই পরিবারগুলিকে৷ তবে বিষয়টি কানে যেতেই তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলার প্রশাসনিক কর্তারা৷

লকডাউনে কাজ গেছ, বাচ্চাদের সেদ্ধ কচুপাতা খাওয়াচ্ছেন মা-বাবা ছবি: কৌশিক দে

হরিশ্চন্দ্রপুর ১-এর বিডিও অনির্বাণ বসু বলেন, ‘লক ডাউন শুরু হতেই আমরা ওই পরিবারগুলির মধ্যে চাল, আলু, সাবান সহ প্রভৃতি জিনিসপত্র পৌঁছে দিয়েছিলাম৷ পরিবারগুলিকে আগামীতে আরও ত্রাণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷’ তবে এই পরিস্থিতিতে অসহায় পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা৷ ওই সংস্থাটি প্রতিদিন প্রায় ৪০০ জনের হাতে খাবারের প্যাকেট তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷

লকডাউনে কর্মহারা হয়েছে দিন আনা দিন খাওয়া পরিবারগুলি৷ পরিস্থিতির নিরিখে এর আগে যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকে পাঁচ কিলো করে চাল দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু সেই খাদ্যদ্রব্য শেষ হওয়ার পর নতুন করে আর মেলেনি কোনও খাদ্যদ্রব্য৷ তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই কচুপাতা খেয়েই দিন কাটাতে হচ্ছে বেশ কিছু পরিবারকে৷

স্থানীয় এক বাসিন্দা জগদীশ বেদ বলেন, খাবারের কোনও ব্যবস্থা নেই৷ সরকার পাঁচ কিলো চাল দিয়েছিল৷ দু’দিনেই সেই চাল শেষ৷ এখন নিজেদের খাওয়া দূরের কথা, বাচ্চাদের মুখেও খাবার তুলে দিতে পারছি না৷ সরকার এখন বাড়ির বাইরে বের হতে দিচ্ছে না৷ ইনকাম নেই৷ প্রশাসন কিংবা রাজনৈতিক নেতারা কেউ আসছেন না৷ খিদের জ্বালায় বাচ্চারা কেঁদেই যাচ্ছে৷ তাই কচুর পাতা রান্না করেই বাচ্চাদের খাওয়াতে হচ্ছে৷

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#kids, #malda, #West Bengal, #lock down

আরো দেখুন