১৫ জুন থেকে শুরু হবে সুন্দরবনের পর্যটন
শুরুতে ছিল করোনা, সেইসঙ্গে জুড়ে গেল ঘূর্ণিঝড় আম্পান। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষজনের জীবনে এখন শুধুই অন্ধকার। ঘর নেই, খাওয়া নেই, রোজগার? তাও নেই। এই পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষগুলোর যাতে কিছুটা সুরাহা হয়, তাই ১৫ জুন থেকেই সুন্দরবনের পর্যটন ক্ষেত্রগুলিতে পর্যটকদের যাওয়ার অনুমতি দিল রাজ্য সরকার। উল্লেখ্য, সুন্দরবনের বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে পর্যটন।
তবে, সুন্দরবনে ঘুরতে গেলেও মানতে হবে বেশ কিছু নিয়ম। মাস্ক পরা, স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক। পর্যটকদের জন্যে বরাদ্দ লঞ্চগুলিও প্রতিদিন স্যানিটাইজ করতে হবে। আর সবচেয়ে জরুরি, ১০ বছরের নিচের শিশু ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণদের আপাতত সুন্দরবনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। ২ সিলিন্ডার যুক্ত বোটে সর্বোচ্চ ১২ জনকে তোলা যাবে। ৪ সিলিন্ডার বোটে ১৮ জন, ৬ সিলিন্ডার বোটে ২৫ জন এবং ৬ সিলিন্ডার লঞ্চে ৩৫ জন যাত্রী তোলা যাবে। বোটে ওঠার আগে যাত্রীদের প্রত্যেকের তাপমাত্রা দেখা হবে।
করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একগুচ্ছ সতর্কতা জারি করেছিল। তার মধ্যে অন্যতম ছিল, জমায়েত এড়ানো। সেই নীতি মেনেই সুন্দরবনে পর্যটকদের ‘প্রবেশ নিষেধ’ ঘোষণা করেছিল বন দফতর। সুন্দরবনের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বলে চিহ্নিত গোসাবার পাখিরালয়, দয়াপুর, বালি, সোনাগাঁ, রাঙাবেলিয়া প্রভৃতি এলাকার হোটেল ও লজগুলিতে থেকেই কড়া নজরদারি শুরু করেছিলেন গোসাবা ব্লকের স্বাস্থ্যকর্মীরা। গোসাবার বিএমওএইচ প্রশান্ত মণ্ডলের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি, বাজার এলাকা, খেয়াঘাট এবং হোটেল ও লজগুলিতে গিয়ে কোভিড-১৯ সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি অযথা আতঙ্কিত না-হওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন। সেইসঙ্গে পর্যটকদের শারীরিক অবস্থার খোঁজও নিতেন নিয়মিত। কারও জ্বর, সর্দি, কাশি হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত হচ্ছে।
এরই মধ্যে হানা দেয় আম্পান। ফলে সোনাগাঁ, রাঙাবেলিয়া, দয়াপুরের মতো এলাকার এখন শুধুই ধ্বংসের চিহ্ন। এই পরিস্থিতিতে পর্যটকরা গেলে সাধারণ মানুষের তাতে কিছুটা সুরাহা হবে বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা। সেইসঙ্গে অসহায় মানুষগুলোর জন্যে অনেকেই হয়ত ত্রাণও নিয়ে যাবেন। তাতে কিছুটা হলেও তাঁদের সুরাহা হতে পারে।
আয়লার পর থেকেই সুন্দরবনের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ধস নেমেছিল। বহু মানুষ পেটের দায়ে শ্রমিকের কাজ নিয়ে পাড়ি দিয়েছিলেন দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলিতে। ওই রাজ্যগুলিতে করোনাভাইরাস থাবা বসানোয় অনেকেই আবার সেখান থেকে গোসাবা বা পার্শ্ববর্তী ব্লকগুলির বাড়িতে চলে এসেছিলেন। কিন্তু আম্পানে সংকট আরও বেড়েছে, তাই পর্যটন শুরু হলে সেই মানুষগুলোর সমস্যা কিছুটা মিটতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।