বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় আডবাণী, উমা ভারতী, যোশীদের ভাগ্য নির্ধারণ আজ
প্রায় ২৮ বছর পরে আজ অর্থাত্ বুধবার বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায় দেবে লখনউয়ে সিবিআই-এর বিশেষ আদালত৷ লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলীমনোহর জোশি, উমা ভারতীদের বিরুদ্ধে বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালতকে রায়দানের জন্য ডেডলাইন ৩০ সেপ্টেম্বর ডেডলাইন দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট৷
১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করেছিলেন করসেবকরা। তাঁদের দাবি ছিল, ওই স্থানে রাম মন্দির ছিল। ঘটনায় লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলীমনোহর জোশি, উমা ভারতীর মতো বিজেপি নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে বাবরি মসজিদ ধ্বংসে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়। সেই মামলার তদন্ত করছে সিবিআই।
সিবিআই আদালতের বিচারক এস কে যাদব গত ১৬ সেপ্টেম্বর নির্দেশ দিয়েছিলেন, রায়দানের দিন জীবিত ৩২ জন অভিযুক্তকেই আদালতে হাজির থাকতে হবে৷ অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন দেশের প্রাক্তন উপ প্রধানমন্ত্রী লালকৃষ্ণ আডবাণী, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুরলীমনোহর জোশি, উমা ভারতী, উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং, বিনয় কাটিয়ার, সাধ্বী রীতাম্বর, চম্পত রাই প্রমুখ।
এর মধ্যে কল্যাণ সিং ও উমা ভারতী– দুজনেই করোনা আক্রান্ত ও হাসপাতালে চিকিত্সাধীন৷ তাই তাঁরা আদালতে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও অনিশ্চিত৷ এই সংবেদশীল মামলার রায়কে ঘিরে যাতে আইনশৃঙ্খলার কোনও রকম অবনতি না হয়, তার জন্য কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে উত্তরপ্রদেশে৷ লখনউয়ের ঢোকার সব প্রবেশ পথে কড়া চেকিং চলছে৷ একই সঙ্গে সাদাপোশাকের পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে৷
বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সময় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কল্যাণ সিং৷ গত বছর সেপ্টেম্বরে তাঁর রাজস্থানের রাজ্যপাল পদে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের শুনানি শুরু হয়৷
সিবিআই কোর্টের বিশেষ অযোধ্যা বিচারকের অনুরোধে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রহিনটন এফ নরিমানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ দিন আগের ডেডলাইন আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেয়৷ এর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, ৩১ অগাস্ট ২০২০ সালের মধ্যে বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায় দিতে হবে৷
২০১৭ সালের এপ্রিলে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনাকে ‘ভারতের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার পাতাকে নাড়িয়ে দিয়েছে’ আখ্যা দেয় আদালত৷ এল কে আডবাণী-সহ একাধিক ব্যক্তি ও করসেবকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের চার্জ রয়েছে৷ সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই আদালতকে নির্দেশ দেয়, ২ বছরের মধ্যে শুনানি শেষ করে রায় দিতে হবে৷
গত মাসে এই মামলায় সিবিআই ভিডিও কনফারেন্সে প্রবীণ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী ও মুরলীমনোহর জোশির বয়ান রেকর্ড করে৷ দুজনেই তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাঁরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার৷ বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় তাঁরা জড়িত ছিলেন না৷ উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংও অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন৷