রাজ্য বিভাগে ফিরে যান

২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সারতে হবে মাধ্যমিকের টেস্ট, নির্দেশ পর্ষদের

December 2, 2021 | 2 min read

বুধবার মাধ্যমিকের টেস্ট নেওয়ার সময়সীমাও বেঁধে দিল মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। এদিন তারা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, ১৩ থেকে ২৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সেরে ফেলতে হবে পরীক্ষা। মঙ্গলবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে স্কুলগুলিকে টেস্ট নিতে বলেছিল উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। তার পরদিনই টেস্টের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গেল। এর আগে টেস্ট নেওয়া আবশ্যিক বললেও দিনক্ষণ বেঁধে দেয়নি পর্ষদ। উল্টোদিকে, উচ্চ মাধ্যমিকের টেস্ট নেওয়ার সিদ্ধান্ত সংসদ স্কুলগুলির উপর ছেড়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে আসে তারা।

উচ্চ মাধ্যমিকের টেস্ট সর্বোচ্চ ৫০ নম্বরের (থিওরির ক্ষেত্রে) হবে। তবে, মাধ্যমিকের টেস্ট হতে চলেছে চিরাচরিত পদ্ধতি মেনে ৯০ নম্বরেই। স্কুলগুলি প্রশ্নপত্র তৈরি করবে। তবে তাতে নজরদারি থাকবে পর্ষদের। পরীক্ষার প্রতিদিন সেই প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে দিতে হবে পর্ষদের একটি নির্দিষ্ট ই-মেল আইডিতে। প্রশ্নপত্র তৈরির সময় পর্ষদের বেঁধে দেওয়া নম্বর বিন্যাসও মেনে চলতে হবে স্কুলগুলিকে। বিভিন্ন স্কুলের প্রশ্নপত্র দিয়ে একটি টেস্ট পেপার প্রকাশ করবে পর্ষদ।

এদিকে, উচ্চ মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষা নিয়ে সংসদ এদিনও একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। তাতে সঙ্গীত, দৃশ্যকলা, স্বাস্থ্য ও শারীরশিক্ষার মতো বিষয়গুলির থিওরির নম্বর কমিয়ে পরীক্ষা নিতে বলেছে। বিষয়গুলির থিওরির নম্বর ধার্য করা হয়েছে যথাক্রমে ৪৫, ৪৫ এবং ৪০ নম্বর। অটোমোবাইল, কনস্ট্রাকশন, ইলেকট্রনিক্স, হেলথ কেয়ার, আইটি অ্যান্ড আইটিইএস প্রভৃতি বৃত্তিমূলক বিষয়ের জন্য সেই নম্বর ধরা হয়েছে ৩০। তবে মূল বিষয়গুলির পরীক্ষা হবে ৫০ নম্বরেই। সংসদের নির্দেশিকা নিয়ে বেশ কিছু স্কুল অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। শিক্ষক নেতা চন্দন গড়াই বলেন, ‘সংসদ আগে স্কুলগুলির উপর টেস্ট নেওয়ার বিষয়টি ছেড়েছিল। তাই অনেক স্কুলই ৭০-৮০ নম্বরের প্রশ্নপত্র ছাপতে দিয়ে ফেলেছে। এবার সেগুলির কী হবে? এই নির্দেশিকা আরও আগে আসা উচিত ছিল।’

৫০ নম্বরের পরীক্ষা নিয়েও আপত্তির কথা জানাচ্ছেন অনেকে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকরা বলছেন, ৫০-এ পরীক্ষা নিতে গেলে সংসদের প্রশ্নপত্রের ধরন এবং নম্বর বিন্যাস মানা সম্ভব নয়। কত সময় ধার্য করা হবে, তা নিয়েও একটা ধন্দ থেকে যাচ্ছে। তাতে আদৌ উচ্চ মাধ্যমিকের প্রস্তুতি কতটা হবে, সে ব্যাপারে সন্দিহান তাঁরা। এ নিয়ে সরব হয়েছেন সিএএইচএমের সম্পাদক তথা সহকারী প্রধান শিক্ষক সৌদীপ্ত দাস। তিনি বলেন, এই দিকগুলি নিয়ে আরও তলিয়ে ভাবা দরকার ছিল সংসদের।

শিক্ষকদের একাংশ এত কম সময়ের মধ্যে প্রশ্নপত্র তৈরি করে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী নয়। তাঁদের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্তগুলি পর্ষদ বা সংসদ আগেভাগে জানিয়ে দিলে সমস্যা থাকত না। তবে, ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ মনে করছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই টেস্ট শেষ করার একটা ইঙ্গিত রয়েছে। অর্থাৎ, জানুয়ারি থেকেই যে সরকার নিচু ক্লাসের পঠনপাঠন শুরু করতে চাইছে, তা আরও স্পষ্ট হল।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#wbbse, #Madhyamik Exam

আরো দেখুন