হচ্ছে টা কী? বিভাগে ফিরে যান

ভারতের চর্মশিল্পের নতুন রাজধানী তিলোত্তমা

May 14, 2022 | 5 min read

গত কয়েক বছরে ভারতের চর্মশিল্পের রাজধানী কানপুর থেকে কলকাতায় স্থানান্তরিত হয়েছে। একসময় দেশের চর্মশিল্পের পীঠস্থান ছিল উত্তরপ্রদেশ। কিন্তু বিজেপি শাসিত ভারতে উত্তরপ্রদেশের চর্মশিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। উত্তরপ্রদেশে গো-রক্ষা ও গো-রক্ষকদের দাপটের কারণে, গবাদি পশু পরিবহন এবং জবাই করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। এই কারণের চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয় উত্তরপ্রদেশের প্রসিদ্ধ চর্মশিল্প।

কাউন্সিল ফর লেদার এক্সপোর্টসের চেয়ারম্যান তথা কানপুরের নাজ এক্সপোর্টস প্রাইভেট লিমিটেডের কর্ণধার ইকবাল নাজ, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ইতালি ও জার্মানিতে একটি বাণিজ্য সফর থেকে যাওয়ার পথে মিলানে সফরকালীন বিরতির সময় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তখন তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তার ব্যবসার সম্প্রসারণের জন্য পশ্চিমবঙ্গে প্রয়োজনীয় জমি দিতে পারবে কিনা। এর কিছুদিন পরেই, ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার পূর্বে বানতলায় অবস্থিত ১,১০০ একর কলকাতা লেদার কমপ্লেক্সে (কেএলসি) ‘জমির আবেদন’ আহ্বান করে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন। কেএলসি- কে “দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ইন্টিগ্রেটেড লেদার হাব” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

চর্মশিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জমির সহজলভ্যতা ও খরচের দিক থেকে বাংলা আদর্শ, পাশাপাশি রাজ্যে সরকারের তরফে একাধিক সুযোগ-সুবিধার দেওয়া হয়। নাজ বলেন, “জাজমাউতে প্রতি বর্গমিটারে জমির দাম ৩০,০০০-৪০,০০০ টাকা এবং উন্নাওতে ১০,০০০-১৫,০০০ টাকা। কেএলসিতে প্রতি বর্গমিটার জমির মূল্য ছিল মাত্র ২,৮০০ টাকা।” শুধু তাই নয়, কানপুর, জাজমাউ এবং উন্নাওয়ে চামড়ার ক্লাস্টারগুলিতে উৎপদনক্ষমতা পরিপূর্ন। সিইটিপি (সাধারণ বর্জ্য পরিশোধনাগার) – যা ট্যানারি থেকে নির্গত অত্যন্ত বিপজ্জনক রাসায়নিক বর্জ্যগুলোর পরিশোধন করে থাকে। পরিশোধন অপরিহার্য। কিন্তু সিইটিপিগুলোও কর্মক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পেরিয়ে গিয়ে কাজ করছে।

কিন্তু সবচেয়ে মারাত্মক হচ্ছে গো-রক্ষা বাহিনীর আক্রমণ। যোগীরাজ্যে গো-রক্ষা গোষ্ঠীগুলির নজরদারিমূলক আক্রমণ এবং ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশের সরকার কর্তৃক অনেক কসাইখানা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে, চর্মশিল্প ক্ষতির মুখে পড়েছে। উত্তরপ্রদেশে চামড়ার ব্যবসা করা কার্যত অসম্ভব! গো-হত্যা নিয়ে বিতর্কের কারণে কানপুরের জাজমাউতে দেশের সবচেয়ে বড় লেদার হাবে ৪০০টি ট্যানারির মধ্যে ১৫০টি ট্যানারি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপর, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কুম্ভ মেলার তিন মাস আগে, উত্তরপ্রদেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ একটি নির্দেশিকা জারি করে। গঙ্গায় চর্মশিল্পজাত বর্জ্য নিষ্কাশন বন্ধ করার জন্যে, ট্যানারিগুলিকে তিন মাসের জন্য বন্ধ রাখতে বলা হয়। শতাধিক ট্যানারি বন্ধ হয়ে যায় এবং চর্মশিল্প সংক্রান্ত বিদেশী চুক্তি বাতিল করা হয়। ট্যানারি মালিকেরা কাঁচামালের জন্য পাকিস্তান ও বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্মাতারা নতুন উৎপাদন কেন্দ্র স্থানান্তর বা খোলার জন্য কলকাতায় আসতে শুরু করে।
যার অন্যতম কারণ ছিল, কলকাতা একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং একটি সমুদ্রবন্দরের সুবিধাযুক্ত একটি মহানগর। এখানে শ্রমিক সস্তা, এবং কেএলসি আকর্ষণীয় মূল্যে জমি প্রতুলতা।

নাজ বলেন, “এখানে কয়েকশ চর্মব্যবসায়ী জমি চেয়েছিলেন। কিন্তু দিদি কেবল তাদেরই বেছে নিয়েছিলেন যারা চর্মশিল্প নিয়ে সত্যি সত্যিই আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু যারা জমি নিয়ে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন তাদের জমি দেওয়া হয়নি।”

প্রকৃতপক্ষে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার শ্রম-নির্ভর চর্মশিল্পের পরিকাঠামো বৃদ্ধি, বর্জ্য শোধনাগারগুলিকে উন্নত করে এবং ব্যবসার জন্য অনুকূল পরিবেশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চর্মশিল্পের উন্নয়নের চেষ্টায় উদ্যোগী হয়েছিল। সেই কারণেই কানপুরের অনেক চামড়া ব্যবসায়ী, কেএলসিতে নতুন করে ব্যবসা স্থাপনের কথা ভাবতে শুরু করেছিলেন।

তবে, কোভিড-১৯ অতিমারি এবং লকডাউনের কারণে এই চর্মশিল্প স্থাপনের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। যা শিল্পের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল। কানপুর থেকে কলকাতায় স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটি শ্লথ গতিতে চলে যায়। ৩০টিরও বেশি চর্মশিল্পকেন্দ্র কেএলসিতে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং এছাড়াও অনেকগুলির নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

গো-রক্ষার দাপটে, ২০১৭ সালে কসাইখানা এবং ২০১৯ সালে ট্যানারি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উত্তরপ্রদেশের চর্ম ব্যবসায়ীরা বিকল্প স্থান খুঁজতে বাধ্য হয়। কেএলসি-র পরিকাঠামো তাদের চাহিদা পূরণ করেছে।

কানপুরের চর্ম ব্যবসায়ী মুখতারুল আমিন বলেন, ‘আমরা মাত্র কয়েক মাস আগে জমি পেয়েছি, মূলত কোভিডের কারণে এবং সিইটিপি প্লান্টের মানোন্নয়নের জন্য শিল্প স্থাপন বিলম্বিত হয়েছে। বিল্ডিং প্ল্যান তৈরি হয়ে গিয়েছে। আমি আশা করছি দুই বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করতে পারবো।’ তিনি শিল্প সম্প্রসারণের জন্য ১৫-২০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন। আমিনের মতোই উত্তরপ্রদেশের প্রায় ২০ জন চর্মব্যবসায়ী কেএলসিতে নতুন ইউনিট সম্প্রসারণে আগ্রহী। সব মিলিয়ে কানপুরের ব্যবসায়ীরা কলকাতায় ৪০০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

দেশের চামড়া রপ্তানির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র কেএলসির এই মুহূর্তে বার্ষিক টার্নওভার ১৫,০০০ কোটি টাকা এবং প্রায় ৭,৫০০ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি করে কেএলসি। সেই কারণেই কানপুর এবং চেন্নাইয়ের বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে কেএলসি।
কেএলসির সাফল্য এসেছে, তবে বিলম্বিত হয়েছে, এবং প্রায় এক শতাব্দীর এক চতুর্থাংশ সময় লেগে গেল সাফল্যের আগে।

সময়টা ছিল ১৯৯৭ সাল। দেশের সর্বোচ্চ আদালত ৫৩৮টি পুরানো, দূষণ সৃষ্টিকারী ট্যানারিকে কলকাতা থেকে বর্জ্য পরিশোধন সুবিধা রয়েছে এমন একটি অঞ্চলে স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। লেদার কমপ্লেক্সটি বানতলায় তৈরি করার কথা ভাবা হয়েছিল। . প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়ার মালিকানাধীন এম এল ডালমিয়া অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড সেই সময় নিলাম জিতেছিল এবং ১,১০০ একর জমি লিজ পেয়েছিল। বিল্ড অপারেট ট্রান্সফারের অংশীদার হিসাবে, তিনি সুপ্রিমকোর্টের আদেশ অনুসারে ২০০২ সালের মধ্যে স্থানান্তরিত হওয়া জমিতে শিল্প স্থাপন করবেন বলেই নির্ধারিত হয়েছিল। কিন্তু তা সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছিল। ট্যানারি চালানোর জন্য সিইটিপি বাধ্যতামূলক, সরকারকে শেষ পর্যন্ত সিইটিপি স্থাপনে পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল। সিইটিপি ২০১৪ সালে চালু করা হয়েছিল এবং ২০০৫ থেকে প্রথম ট্যানারিগুলি সরানো শুরু হয়েছিল।

কলকাতা লেদার কমপ্লেক্স ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমেদ খান ২০০০ সালে ৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন, তিনি ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে এসে বিস্মিত হয়েছিলেন। সিইটিপির চারটি মডিউল ব্যতীত আর কোনটাই চালু হয়নি, যেগুলির দৈনিক ২০ মিলিয়ন লিটার চামড়াজনিত বর্জ্য পরিশোধন করত। যা কার্যত কিছুই না।
কেএলসিতে ব্যবসা করা একজন চর্মব্যবসায়ী বলেছেন, “আমরা আমাদের বিনিয়োগের জন্য শুধু ইএমআই দিচ্ছিলাম। তখন কমপ্লেক্সে রাস্তার আলো ছিল না, পানীয় জলের ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি ট্যানারি থেকে সিইটিপিতে বিষাক্ত বর্জ্য পরিবহনের জন্য এইচডিপিই (উচ্চ ঘনত্বের পলিথিন) পাইপলাইনও স্থাপন করা হয়নি। পরিবর্তে, ইটের নর্দমা এবং নিম্নমানের আরসিসি অর্থাৎ রিইনফোর্সড কংক্রিট পাইপলাইনগুলি তাড়াহুড়ো করে স্থাপন করা হয়েছিল, যা দূষণ ডেকে আনছিল।”

আশেপাশের গ্রামগুলি কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশনের ফলে পুকুরে মাছ মারা, কৃষিক্ষেত্রের সবজির ক্ষতি হচ্ছিল। বিভিন্ন স্বাস্থ্যের সমূহ ক্ষতির শঙ্কা ছিল। লেদার কমপ্লেক্সের ভিতরে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছিল না, তোলাবাজদের দ্বারা ব্যবসায়ীরা আক্রান্ত হয়েছিল। ট্যানারির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িয়ে প্রায় ৬,০০,০০০ জন লোকও নানান হয়রানির শিকার হয়েছেন।

প্রায় ১৮৭টি নতুন ট্যানারি মালিকরা ৪,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এক লক্ষ চাকরি সৃষ্টিতে উদ্যোগী হয়েছে। ইন্ডিয়ান লেদার প্রোডাক্টস অ্যাসোসিয়েশনের আওতাধীন প্রায় ৫০টি চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকেন্দ্রে বর্জ্য শোধনাগার (এসটিপি) ছিল না। পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থা ছিল না, এবং পাম্পিং স্টেশন ছাড়াই চামড়া ধোয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জলাধারগুলি নির্মিত হয়েছিল।

কেএলসি বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু কেএলসি- সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল সিইটিপির প্রতুলতা। দূষণের কারণে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সরকারকে সমালোচিত হতে হয়। কিন্তু রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পরে ২০১৫ সালে থেকে দিন ফিরতে শুরু করে। পরিকাঠামো উন্নত হয়েছে, সমস্যা সমাধান হয়েছে। চামড়া ধোয়ার জন্য দিনে ৯০,০০০ লিটার জল ধারণক্ষমতার তিনটি পাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছিল। ওয়েস্ট বেঙ্গল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড প্রতি মাসে ১০০ টন বর্জ্য কলকাতা থেকে ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত একটি বন্দর শহর হলদিয়াতে পরিবহন করতে সম্মত হওয়ায় বিপজ্জনক কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন সহজতর হয়েছিল। ২০ এমএলডি বর্জ্য পরিশোধনের ক্ষমতাসম্পন্ন সিইটিপির আরও চারটি মডিউল ২০২২ সালের মার্চ মাসে কাজ করা শুরু করে। উদ্বোধন করার সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আটটি সিইটিপির মাধ্যমে কেএলসি বিশ্বের একমাত্র চামড়ার কমপ্লেক্স, যেখানে এই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। কেএলসি ৮০,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ আনবে এবং পাঁচ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।”

কেএলসি এখন প্রস্তুত, যারা ২০১৮ সালে জমি কিনেছিল এবং অপর্যাপ্ত বর্জ্য পরিশোধন ক্ষমতার কারণে ব্যবসা স্থানান্তর করতে পারেনি। তারা এখন আসছেন, এই ট্যানারদের মধ্যে কানপুর এবং চেন্নাইয়ের চামড়া ব্যবসায়ীরা আছেন। এখন যেহেতু কেএলসি চালু হয়েছে, অন্যান্য উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। বায়োগ্যাস প্লান্টে বিদ্যুত উৎপাদনের জন্য পাইলট প্রকল্প হিসেবে চামড়ার কাদা, মাংস ও বর্জ্য ব্যবহার করা হচ্ছে। সুইচ এশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে টাইলস তৈরি করা হচ্ছে। ৫১ একর এলাকা জুড়ে চামড়ার বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য জায়গা তৈরি করা হচ্ছে।

একবার যখন তাদের উৎপাদন শুরু হয়েছে, কানপুরের ট্যানারি মালিকরা কেএলসিতে স্থাপিত উৎপাদন কেন্দ্রগুলি থেকে উপকৃত হতে পারেন। ভিনীত গ্লোভস ১০০ কোটি টাকার বার্ষিক টার্নওভারসহ একজন শীর্ষ রপ্তানিকারক, এখন তিনি দ্বিতীয় একটি উৎপাদন স্থাপন করতে চাইছে৷ চর্মশিল্পের দুনিয়ায় নিউ হরাইজোন, ট্রীয় ট্রেন্ডস, কম্পনেরো এবং এএসজি লেদারের মতো প্রখ্যাত ব্র্যান্ডগুলি কেএলসিতে উৎপাদনকেন্দ্র করতে আসছে। এখানে দৈনিক শ্রমিকদের মজুরিও সস্তা। বড় কারখানার ক্ষেত্রে মাত্র ১৫,০০০ থেকে ১৮,০০০, যা উত্তরপ্রদেশের তুলনায় অনেকটাই স্বস্তা। পাঁচ থেকে ছয় লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান যোগাবে বলেও মনে হচ্ছে। ইমরান আহমেদ খানের মতে, ‘এ রাজ্যে চর্মশিল্পে বিনিয়োগ করা প্রতিটি কোটি টাকার জন্য সর্বনিম্ন ১৫টি কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। এটি কেন্দ্রীয় সরকারের পরিসংখ্যান। সুতরাং, যদি নতুন ১৮৭টি ট্যানারি ইউনিট ৪,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে, তাহলে পরিসংখ্যান বলে প্রত্যক্ষভাবে এক লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি করা খুব কঠিন হবে না।’ তিনি আরও বলেন, এটি গর্ব করার মতো বিষয়। উত্তরপ্রদেশের চর্মশিল্পের সুপ্রতিষ্ঠিত সংস্থা সুপার হাউস, প্যাসিফিক, নাজ এবং কানপুরের আরও ১৫টি সংস্থা কলকাতার চামড়া কেন্দ্রে আসার জন্য মুখিয়ে রয়েছে। তারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৫,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#Bengal Means Business, #Kolkata, #leather Industry

আরো দেখুন