দেশ বিভাগে ফিরে যান

বাকস্বাধীনতার প্যাঁচ এড়াল সুপ্রিম কোর্ট? ব্যতিক্রম সেই বিচারপতি নাগরত্না

January 4, 2023 | 2 min read

নোটবাতিল (Notes Ban) মামলার পর ফের একবার বেঞ্চের বিরুদ্ধ মত পোষণ করলেন বিচারপতি বি ভি নাগরত্না (B. V. Nagarathna)। মন্ত্রীরা সরকারের প্রতিনিধি হলেও, তাঁদের বক্তব্যের দায় সরকারের নয়। কেবল মন্ত্রীরাই নন; সাংসদ-বিধায়ক কারও কোনও মন্তব্যের জন্যেই সরকারকে দায়ী করা যায় না। কারণ সংবিধান অনুযায়ী তাঁদেরও বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। মঙ্গলবার এই মর্মেই রায় দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সাংবিধানিক বেঞ্চ। কিন্তু এক্ষেত্রেও বেঞ্চের সব বিচারপতিরা একমত হলেন না। বেঞ্চের একমাত্র মহিলা সদস্য বিচারপতি বি ভি নাগরত্না জানান, মন্ত্রীর বক্তব্যের দায় নিতে হবে সরকারকেই। তাঁর মতে, মন্ত্রী সরকারি পদাধিকারবলেই মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, ঘৃণ্য মন্তব্য সমাজের মূল্যবোধ নষ্ট করে। সরকার এবং সেলেব্রিটির মতো প্রভাবশালীদের বক্তব্যের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে বলেন বিচারপতি নাগরত্না।

সাংবিধানিক বেঞ্চের অন্য চারজন বিচারপতির রায়, মতপ্রকাশের অধিকার দেশবাসীর সকলেরই রয়েছে। সে কারণেই তারা বলছেন, জনপ্রতিনিধিদের কথাবার্তার উপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করার দরকার নেই। কিন্তু একজন মাত্র বিচারপতি বিরুদ্ধ মত দেওয়ায়, আনুপাতিক রায়ের নিয়মে বিচারপতি নাগরত্নার রায় খারিজ হয়ে গিয়েছে। বিদ্বেষমূলক ভাষণ থেকে হিংসায় সরাসরি উস্কানি দেওয়া, মোদী সরকারের নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। হাজার সমালোচনার পরেও তাঁরা সতর্ক হন না। এক্ষেত্রে এই রায় বিদ্বেষমূলক ভাষণ এমন জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ সুবিধা করে দেবে, এমনটাই আশঙ্কা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

বিচারপতি এস এ নাজির, বি আর গাভাই, এ এস বোপান্না, ভি রামসুব্রহ্মণ্যম এবং বি ভি নাগরত্নার বেঞ্চে রায়ে বলা হয়েছে, দেশ বা রাজ্যের কোনও বিষয় প্রসঙ্গে কোনও মন্ত্রী কিছু বক্তব্য রাখলে, তার দায় কখনওই সরকারের উপর চাপানো যায় না। রাষ্ট্র ছাড়া অন্যান্য সংস্থার ক্ষেত্রেও সংবিধানের ১৯(১)(এ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মৌলিক অধিকার প্রযোজ্য। ​

২০১৬ সালের এক মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দেওয়া হয়েছে। ২০১৬-এর জুলাই মাসে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন মা এবং মেয়ে। এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাগিয়ে দিয়েছিলেন, উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মন্ত্রী আজম খান। নির্যাতিতার স্বামী সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন। আজম খান ক্ষমা চাইলেও, জনপ্রতিনিধিদের মন্তব্যে লাগাম টানার মামলা সাংবিধানিক বেঞ্চে পৌঁছয়। এই মামলায় গত ১৫ নভেম্বর শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, দেশবাসীর প্রতি অপমানজনক মন্তব্য থেকে সরকারি কর্মী, আধিকারিকদের বিরত থাকা উচিত। কিন্তু তখন রায়দান স্থগিত রেখেছিল শীর্ষ আদালত। ​সেই মামলার রায়ে গতকাল আদালত জানিয়ে দিল, সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদ ছাড়া জনপ্রতিনিধিদের বাকস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় কোনও অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাবে না।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#B. V. Nagarathna, #Notes Ban, #Demonitization

আরো দেখুন