অস্তাচলে কলকাতার ঐতিহ্য! গতির সাথে পাল্লায় ‘ক্লান্ত’ হাতেটানা রিকশা
নিউজ ডেস্ক,দৃষ্টিভঙ্গি: তিনশো বছরের পুরনো কলকাতা নগরীর বদলে গেছে অনেক কিছুই। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে গেছে কিছু ঐতিহ্যও। সেই ঐতিহ্যের অন্যতম অংশ হাতে টানা কাঠের রিকশা। আজ ঘণ্টির ঠুং ঠুং শব্দে একটা মানুষ টেনে নিয়ে যাওয়ার চেনা ছবিটা আর তেমন দেখতে পাওয়া যায় না। সে সময়ের অগতির গতি ছিল হাতে টানা রিকশা। যেটা আগে উত্তর ও মধ্য কলকাতার অলিগলি থেকে রাজপথে দেখা যেত, এখন সেটা তলানীতে ঠেকলেও কিছুটা দেখা যায় দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাট, ভবানীপুরের দিকে।
কলকাতার গতির সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে হাফিয়ে পড়েছে শীর্ণকায় শিরা বের করা হাতের রিকশা চালকরা। অনেক চালকই আবার ছেড়ে দিয়েছেন বাপ-দাদাদের সেই জীবিকা। এ শহর তাঁদের পেটের ভাত জোটায় না, তাদের মাথার ছাদটুকুও যেন ছোট হয়ে গেছে। তবে এখন কেউ কেউ রিকশা চালান বটে, তবে তাতে তাঁদের সংসার চলেনা। শিরদাঁড়া নুইয়ে মাটিতে মিশে গিয়ে শহরের কাছে হাত পাততে বাধ্য হয়।
ইতিহাস বলছে, ষোড়শ শতকের অন্তিম পর্বে জাপানের শহরে দেখা যেত হাতে টানা কাঠের রিকশা। জাপান থেকে কলকাতায় প্রথম টানা রিকশা আসে ১৮৯০ সালে। সেই থেকে কলকাতার ঐতিহ্যর নয়া সূত্রপাত। দেখতে দেখতে কলকাতায় হাতে টানা রিকশার বয়স ১৩৩ বছরের বেশি। উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ব্রিটিশদের সাথে সমানতালে তিলোত্তমা নগরীকে শাসন করেছিল এই হাতে টানা কাঠের রিকশা।