বিবিধ বিভাগে ফিরে যান

জ্যোতিরিন্দ্রনাথ: বাঙালিকে কী কী শিখিয়েছিলেন রবি ঠাকুরের জ্যোতিদাদা?

March 4, 2024 | < 1 min read

বাঙালিকে কী কী শিখিয়েছিলেন রবি ঠাকুরের জ্যোতিদাদা

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি: আজ ৪ মার্চ, ১৯২৫ সালের আজকের দিনেই চলে গিয়েছিলেন রবি ঠাকুরের নতুনদা। জনজীবনকে আরও অনেক আগেই ছেড়েছিলেন। ১৯০৮ সালে জোড়াসাঁকোর পাঠ মিটিয়ে রাঁচির মোরাবাদী পাহাড়ের উপর ‘শান্তিধাম’ বানিয়ে চলে যান জ্যোতিরিন্দ্রনাথ। শান্তিধামেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রায় দু’দশক অন্তহীন নিঃসঙ্গতাই ছিল তাঁর সঙ্গী।

বাঙালিকে বহু কিছু শিখিয়ে ছিলেন তিনি, কেবল তাই-ই নয়। বাঙালিকে রবীন্দ্রনাথ গড়ে দিয়েছিলেন তিনি। বাঙালি গীতা-রহস্য চিনিয়েছিলেন তিনি। সংস্কৃত নাটকের অনুবাদ থেকে সাহেবদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, বঙ্গকে রঙ্গালয়, ‘গুপ্ত সমিতি’ গড়তে শেখানোর কারিগর তিনি। নারী ক্ষমতায়ণেও প্রগতিশীলতার ছাপ রেখেছিলেন। স্ত্রী কাদম্বরীকে নিয়ে চিৎপুরের রাস্তা দিয়ে জোড়া ঘোড়া ছুটিয়ে ইডেন গার্ডেনসে যেতেন উনিশ শতকে। একে একে গড়েছিলেন বিদ্বজ্জন সমাগম, সঞ্জীবনী সভা, সারস্বত সমাজ।

উনিশ শতকে দাঁড়িয়ে চিনিয়েছিলেন ছদ্মবিজ্ঞান। ‘ফ্রেনোলজি’ অর্থাৎ শিরোমিতি-বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন তিনি। মানুষের মাথার গড়ন দেখে, মনের চলন বলে দিতে পারতেন। মুখের ছবি আঁকার নেশা ছিল তাঁর। পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব, অতিথি অভ্যাগতদের প্রতিকৃতি এঁকেছেন।‌ সেকালের বিখ্যাত মানুষদের এঁকেছেন তিনি। আজও তাঁর আঁকা প্রায় ১৮০০ স্কেচ সংরক্ষিত আছে। রবীন্দ্রনাথ ও রোদেনস্টাইনের উদ্যোগে ১৯১৪ সালে স্কেচগুলি নিয়ে বই প্রকাশিত হয়েছিল।

এমন কর্মে বিশ্বাসী মানুষ সরিয়ে ফেলেছিলেন যাবতীয় ব্যস্ততা। কাদম্বরী দেবী আফিম খেয়ে আত্মহত্যা করেন। রবীন্দ্রনাথ, দ্বিজেন্দ্রনাথ, সত্যেন্দ্রনাথ একে একে সবাই জোড়াসাঁকো থেকে বেরিয়ে পড়েন। হেমেন্দ্রনাথ মারা যান। বীরেন্দ্রনাথের মস্তিষ্কবিকৃতি ঘটে। ১৯০৫-এ দেবেন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর জ্যোতিরিন্দ্রনাথ একেবারে নিঃসঙ্গ হয়ে গেলেন। চলে গেলেন একেবারে আড়ালে, তারপর কালের নিয়মে একদিন মৃত্যু গ্রাস করল তাঁকে।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#death anniversary, #Jyotirindranath Tagore, #Playwrighter

আরো দেখুন