রাজ্য বিভাগে ফিরে যান

বিচারালয় নিভৃতে নীরবে কাঁদে

March 5, 2024 | 2 min read

সৌভিক রাজ

ভারতীয় বিচারবিভাগের ইতিহাস হয়ত এ ঘটনা প্রথম ঘটতে যাচ্ছে। একজন বিচারপতি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন, কেবলমাত্র রাজনীতিতে নামবেন বলে। ঘটনাক্রম কোন দিকে বাঁক নেবে তা সময় বলবে। তবে আপাতভাবে পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি বলছে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Abhijit Gangopadhyay) এবার সংসদীয় রাজনীতির ময়দানে আবির্ভূত হবেন। হতেই পারেন। ভারতের সংবিধান তাঁকে এ অধিকার দিয়েছে। তিনিও সমাজের অংশ। কিন্তু বিগত দু-আড়াই বছরে, তাঁকে ঘিরে বঙ্গে যা যা ঘটেছে; সেগুলোকে কি আর নিছক নিরপেক্ষতার আওতায় ফেলা যায় এখন?

‘ভগবান’ হলেন কীভাবে বিচারপতি?

আম জনতা জানে আদালতে বিচার চাইতে যাওয়া মানেই সুদীর্ঘ সময়ের সফর, তাতেও ন্যায় বিচার আসবে কিনা, যা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ক্ষমতাবানেরও শাস্তি হতে পারে, তা বিশ্বাস হয় না আম জনতার। ঠিক এই জায়গাটাতেই আঘাত করেছিলেন অভিজিৎ। এসএসসি আইনজীবী থাকার সময় সে জিনিস কাছ থেকে দেখেছিলেন বেছে নিলেন সেই মামলাই। ব্যস্ আর কি! প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়াকে ঘোরালেন নিজের দিকে। হালের ভাষায় বলি? সরকার বিরোধী কনটেন্টে রিচ বেশি। তিনিও বেছে নিলেন সেই পথে। নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে পুরোপুরি ব্যবহার করলেন বিচারকের চেয়ার আর জনতার আবেগকে। অন্যের ত্রুটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে হয়ে উঠলেন ‘মহিসা’। মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার দিতে এলেন। খুব সাবধানে গড়লেন নিজের ইমেজ। বামেদের বই কিনে, বাম নেতার প্রশংসা করে আদায় করলেন সমাজতন্ত্রকামী হাওয়ার পরিচয়। আরও বাড়লে জনতার সমর্থন। পিছনে পেলে এক বিখ্যাত সংবাদ গোষ্ঠীর সমর্থন। ব্র্যান্ড বুদ্ধর পর তাঁরাও ব্র্যান্ড অভিজিৎ তৈরিতে মনোনিবেশ করল।

২০২২-র সেপ্টেম্বরে সম্প্রচারিত সাক্ষাৎকারে তদানিন্তন বিচারপতি বলেছেন, ডাক আসলে রাজনীতিতে নামবেন। আরও বলেছেন, এমন দু-তিনটে রায় দিয়ে যেতে চান যা মানুষ মনে রাখবে। তাহলে মানুষকে মনে রাখানোর জন্যেই এমনটা করা? রায়দানের লক্ষ্য সুবিচার দেওয়া বিচারপ্রার্থীদের, সেই সুবিচার দেওয়ার চেয়েও বড় মানুষের মনে ছাপ ফেলা?

এক পক্ষ অবলম্বন করলেই কি নিরপেক্ষ হাওয়া যায়…! কোনও একটি বিশেষ দলের বিরোধীতা মানেই কি ভগবান হয়ে যাওয়া? প্রশ্নগুলো ওঠার সময় এসেছে।

টলে গেল ‘ভগবান’-র আসন?

রায়দান কোনও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়, দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তদন্তের মাধ্যমে যেমন যেমন তথ্য-প্রমাণ উঠে আসবে সেই ভিত্তিতে এগোবে রায় দানের প্রক্রিয়া যার উদ্দেশ্য সুবিচার প্রতিষ্ঠা। সেখানে আবেগের স্থান নেই। বিচারক অভিজিৎ আর ব্যক্তি অভিজিৎ আলাদা, মিলিয়ে ফেললেই উচ্চ আদালতে মুখ থুবড়ে পড়বে রায়। হিরো আর বিচারক আলাদা, জনমানসে নায়ক সাজার তাগিদ বিচারকের থাকা অসমীচীন।

অভিজিৎ রায় দিচ্ছিলেন আদালত ও আইনের সীমা লঙ্ঘন করে, জনমানসে নেতা হওয়ার বাসনায়। আইনের আতসকাঁচের নীচে তা পড়তেই, খারিজ হচ্ছিল একের পর এক রায়। বুঝে গিয়েছিলেন এবার ভগবানের আসন টলবে। তাই আগেই নিজে তীর-কাঠি নাড়িয়ে দিলেন।

যাঁদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে নায়ক হয়ে উঠলেন অভিজিৎ, তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা হল না কি?
রাজনীতির মাঠে জমি শক্ত পারে, ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে রায়গুলো দেওয়া হয়নি তো? এবার ওঁর দেওয়া রায়গুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা কি অনুচিত? একজন মানুষকে মহামানব বানানোর হাতিয়ার হয়ে উঠল আদালত?

ইস্তফা দেওয়ার পর, নিজের বাড়িতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানান তিনি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#tmc, #calcutta high court, #Lok Sabha Election 2024, #Justice Abhijit Gangopadhyay, #bjp

আরো দেখুন