উত্তরবঙ্গ বিভাগে ফিরে যান

রাম নবমীতে দাঙ্গা বাধাতে পারে বিজিপি, সতর্ক থাকতে বললেন মমতা

April 15, 2024 | 2 min read

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি: আগামী শুক্রবার প্রথম দফার ভোটের আগে উত্তরবঙ্গে প্রচারে ঝড় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার জোড়া প্রচারসভা করলেন তিনি। প্রথমে কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জগদীশ বাসুনিয়ার (Jagadish Chandra Barma Basunia) সমর্থনে এবং পরে আলিপুরদুয়ারে তৃণমূল প্রার্থী প্রকাশ চিক বরাইকের (Prakash Barik) সমর্থনে জনসভা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

কোচবিহারে (Cooch Behar) নির্বাচনী জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, ‘দাঙ্গাও করতে পারে। দাঙ্গা করার জন্য রেডি হয়ে আছে। প্লিজ দয়া করে কেউ দাঙ্গায় যাবেন না, আপনাকে যদি গালিও দেয়। আপনাদের যিনি প্রার্থী তিনি বকলমে একজন বড় গুন্ডা সরদার। মানে আমাদের সরদারজি না। গুন্ডাদের মাফিয়াদার। সরদার কথাটা আমি প্রত্যাহার করলাম। তিনি কিন্তু আবার আগুন লাগাবেন। তিনি কিন্তু আবার গুলি চালিয়ে দেবে আগেরবার শীলতকুচির মতো। তিনি কিন্তু আবার আপনাদের বিপদে ফেলবে’।

বিজেপি (BJP) মানুষের অধিকার হরণ করে নিচ্ছে। মানুষ কী খাবেন, সেটাও আগামিদিনে বিজেপি ঠিক করে দেবে। যেমন বিজেপি বলবে, সেরকমই খেতে হবে। এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কোচবিহারের জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো দাবি করেন, ক্ষমতায় ফিরে এলে সংশোধনী নাগরিকত্ব আইন (সিএএ), জাতীয় নাগরিকপঞ্জী (এনআরসি) এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মাধ্যমে মানুষের অধিকার কেড়ে নেবে বিজেপি সরকার। মানুষ কী খাবেন, সেটাও ঠিক করে দেবে গেরুয়া শিবির। মমতা বলেন, ‘আপনি কী খাবেন, লিখে দেবে সকালবেলায়। চা খাও। চায়ের সঙ্গে গোমূত্র খাও। আপনি কী খাবেন, লিখে দেবে দুপুরবেলায়। কী খাবে, গোবরের সঙ্গে মিশিয়ে কিছু খাও। সন্ধ্যায় কী খাবেন, সেটাও ওরা ঠিক করে দেবে। রাতে আপনি কত ঘণ্টা ঘুমোবেন, সেটা ওরা ঠিক করে দেবে।’

আলিপুরদুয়ারে (Alipurduar) মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিরোধীদের আওয়াজ কেড়ে নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেউ আওয়াজ করলে জেলে পুরে দেওয়া হয়। যে সব সরকারি আধিকারিকেরা ভাল কাজ করেন, তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়। অথচ সিবিআই, ইডির চোর অফিসারদের কাজে লাগানো হয়। অনেক প্রধানমন্ত্রী দেখেছি। এ রকম কোনও প্রধানমন্ত্রী দেখিনি।’’

মমতা বলেন, ‘‘যারা চোর, তারা গিয়ে বিজেপিতে যোগ দেয়। আমাদের মুর্শিদাবাদের ডিআইজিকে সরিয়ে দেওয়া হল বিজেপির কথায়। এখন মালদা-মুর্শিদাবাদে যদি হিংসা হয়ে যায়, তা হলে তার দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে। আমি জানি কারা হিংসা সামলাতে পারে। কমিশন বিজেপির কথায় রাজ্য থেকে বেছে বেছে অফিসারদের সরিয়ে নিয়েছে। একটাও হিংসার ঘটনা ঘটলে আমরা আপনাদের ধরব। আমি যদি কৃষকদের জন্য ২৬ দিন অনশন করতে পারি, তা হলে আপনাদের অফিসের সামনেও ৫২ দিন ধর্না দিতে পারি। দেখে নেব, কত জেল আর পুলিশ আছে। কত মারবেন দেখে নেব। আমি লড়তে জানি।’’

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর রাহুল গান্ধী। পর পর দুদিন দুই বিরোধী নেতার কপ্টারে আয়কর তল্লাশি নিয়ে এদিন সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোচবিহারের নির্বাচনী সভা থেকে তিনি বলেন, ‘‘অভিষেকের কপ্টারে কাল তল্লাশি চালিয়েছে। কপ্টারে নাকি সোনা, টাকা আছে। কী ভেবেছিল? কপ্টার থেকে সোনা পাবে? এসব আমরা করি না। বিমানে ওদের টাকাপয়সা আসে। ওখানে বিএসএফ, সিআইএসএফ আছে। কোনওদিন কোনও বিজেপি নেতার কপ্টারে তল্লাশি চালানোর সাহস হয়েছে তাদের?’’

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#Jagadish Chandra basunia, #Prakash Barik, #Mamata Banerjee, #Ram Navami, #bjp, #alipurduar, #Loksabha Election 2024

আরো দেখুন