পড়ুয়াদের প্রতি ক্ষমতার সামনে সত্য বলার ও ঐতিহ্যবাহী উত্তরাধিকারকে রক্ষা করার আহ্বান তৃণমূল সাংসদের

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি: বিশ্ব সামাজিক ন্যায়বিচার দিবসে সাংসদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের বক্তব্য আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। চেন্নাইয়ে লয়োলা কলেজের শতবর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখলেন সাংসদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। শিক্ষা, ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্র রক্ষায় খ্রিস্ট ধর্মযাজক প পাদ্রিদের অবদানকে সম্মান জানিয়েছেন ডেরেক। ফাদার জেরোম ডি’সুজা এবং ফাদার স্ট্যান স্বামীকে নিজের বক্তব্য উৎসর্গ করেছেন মহুয়া। ছাত্র এবং শিক্ষকদের, নিজেদের ঐতিহ্যবাহী উত্তরাধিকার রক্ষা করতে এবং ক্ষমতার কাছে সত্য কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, “খ্রিস্টান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যেখানে অ-খ্রিস্টান পরিবার থেকে প্রায় ৭৫ শতাংশ পড়ুয়া পড়তে আসে। প্রতি একশো জন পড়ুয়ার মধ্যে প্রায় ৭৫ জন হিন্দু, মুসলমান, শিখ, বৌদ্ধ সম্প্রদায় থেকে পড়তে আসে। তাঁর কথায়, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে খ্রিস্টান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় সমান অধিকার ও সমান সুযোগকে কতটা অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
এছাড়াও পড়ুয়া ও শিক্ষকদের সঙ্গে ভারতের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা ও সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন ডেরেক। তাঁর বক্তব্য শিক্ষক্ষেত্রে সংস্কারের দাবিকে ইঙ্গিত করে। সকলের জন্য সামর্থ্য-বান্ধব, গ্রহণযোগ্যতা ও সমান সুযোগসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থার হয়েই সওয়াল করেন তিনি।
অংশগ্রহণকারী পড়ুয়াদের মধ্যে ফাদার স্ট্যান স্বামী টি-শার্ট উপহার স্বরূপ বিতরণ করেন তিনি। তিনি নিজেও স্ট্যান স্বামীর ছবি-সহ একটি টি-শার্ট পরেছিলেন। পড়ুয়াদের প্রতি তাঁর আহ্বান, “নিজেদের ঐতিহ্য নিয়ে লজ্জা পাবে না। ফাদার স্ট্যান স্বামীর ঐতিহ্যকে উদযাপন করতে হবে।” স্ট্যান স্বামীর মৃত্যু নিয়েও সরব হন তিনি। অন্যদের নীরব থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, পাদ্রিদের ইতিহাস রয়েছে, তাঁরা ভয় না পেয়ে বরাবর ক্ষমতার সামনে সত্যি বলে এসেছেন। কিন্তু এখন নীরব কেন? সংখ্যালঘুদের অধিকারের দাবিতে লড়াই করা ফাদার জেরোম ডি’সুজাকেও শ্রদ্ধা জানান ডেরেক।
এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন ও বক্তব্য রাখেন তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ মহুয়া মৈত্র।