মোদী জমানায় ১০০ কোটি দেশবাসীর সংসার চালাতেই আয়ের সবটা ফুরিয়ে যাচ্ছে! বলছে সমীক্ষা

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি: সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা দেখিয়ে দিয়েছে, ১০০ কোটি দেশবাসীর সংসার চালাতেই আয়ের সবটা ফুরিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, তাদের হাতে উদ্বৃত্ত বলে আর কিছুই থাকছে না। ফলে ভোগ্যপণ্য কেনাকাটি তো দূরঅস্ত, সামান্যতম সঞ্চয়ও এখন আম জনতার কাছে অধরা থেকে যাচ্ছে। ইন্ডাস ভ্যালি অ্যানুয়াল রিপোর্টে সাফ দেখানো হয়েছে, নরেন্দ্র মোদীর ভারতে লাভের গুড় খেয়ে যাচ্ছে মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ। দেশের ৫৭ শতাংশ সম্পদের দখল হাতে রেখে তারাই ধনী থেকে ধনীতর হচ্ছে।
আর ‘নুন আনতে পান্তা ফুরানো’ শ্রেণির তালিকা প্রতিদিন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। কারণ? চরম মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্ব। কেন্দ্রীয় সরকারি হিসেবও কিন্তু একেবারে এই অঙ্ক অস্বীকার করতে পারছে না। কারণ, পরিসংখ্যান মন্ত্রক তাদের সদ্য প্রকাশিত ‘টাইম ইউজ সার্ভে’তে ২০১৯ সালের সঙ্গে ২০২৪ সালের তুলনা করে দেখিয়েছে, পেটের তাগিদে দিনের অনেক বেশি সময় দৌড়তে হচ্ছে আম জনতাকে।
পাঁচ বছর আগে গড়ে যেখানে ১৬৪ মিনিট কাজ করলেই অন্ন সংস্থান হয়ে যেত, এখন সেখানে গড়ে ১৮০ মিনিট খরচ করতে হয়। ফলে যে সময়টা তাঁরা পড়াশোনা বা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনের জন্য খরচ করতেন, কমে গিয়েছে সেটাই। যে সময়টুকু খরচ করলে ভারতবাসীর রুজিরুটির ব্যবস্থা হতো, তা আর যথেষ্ট হচ্ছে না। অন্য কাজ খুঁজে কিংবা ওভারটাইম করে সামাল দিতে হচ্ছে পরিস্থিতি। তারপরও সঞ্চয় বা ভোগ্যপণ্যের পিছনে খরচ তাঁরা করতে পারছেন না। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, যাঁরা কোনও না কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন, তাঁদের ধরেই সমীক্ষাটি চালিয়েছে কেন্দ্র।
অথচ, মোদী জমানায় ২০ লক্ষ ভারতবাসী কাজ হারিয়েছেন, নোট বাতিল ও জিএসটির ধাক্কায় বহু সংস্থা বন্ধ হয়েছে, মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ের হার ৫০ বছরে সর্বনিম্ন, মূল্যবৃদ্ধির নিরিখে আয় কোভিডের আগের গড় পর্যন্ত পৌঁছতে পারেনি। সবচেয়ে বড় কথা, পাঁচ বছরে জনসংখ্যাও বেড়েছে লাফিয়ে। সেই হিসেব ধরলে কেন্দ্র বিপাকে পড়তে বাধ্য।