কাঁথি সমবায় ব্যাঙ্কের ভোটে সবুজ ঝড়, ছাব্বিশের আগে ভেঙে পড়ল অধিকারী সাম্রাজ্য?

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি: কাঁথি সমবায় ব্যাঙ্কের ভোটে সবুজ ঝড়। খাতা খুলতেই পারল না বিজেপি। বঙ্গ রাজনীতির বিগত এক দশকে শুভেন্দু অধিকারীর গড় হয়ে উঠেছিল কাঁথি। ধীরে ধীরে কি সেই সাম্রাজ্যে ফাটল ধরছে? অন্তত সমবায় ভোটের ফলাফলে সেই ইঙ্গিত মিলেছে। যার জেরে বিধানসভা নির্বাচনের আগে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় জোর ধাক্কা খেল বিজেপি।
কাঁথিতে সমবায় ব্যাঙ্কের ভোটে বিজেপির সন্ত্রাস উড়িয়ে বিপুল জয় পেল তৃণমূল। প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়ককে মারধর, ভোটারদের ভয় দেখিয়েও লাভ হল না! ২৩ বছর টানা সভাপতি ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, তাঁর জমানারও অবসান ঘটল বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের।
শনিবার কাঁথি কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন সমবায় ব্যাঙ্কের ১১টি কেন্দ্রে ভোট হয়। ৭৮টি আসনের মধ্যে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থীরা। বাকি ৬০ আসনে শনিবার ভোট গ্রহণ হয়। এদিন ভোট আরম্ভ হতেই কাঁথির জাতীয় বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। কাঁথি সমবায় ব্যাঙ্কের ভোট ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় রামনগর কলেজ চত্বর। অভিযোগ, সমবায় ব্যাঙ্কের ভোট কেন্দ্রে ব্যাঙ্কের পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও ভোটারদের ঢুকতে বাধা দেয় পুলিশ। জানা যাচ্ছে, তার প্রতিবাদ করতেই তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরি আক্রান্ত হন। অখিল গিরির অভিযোগ, পুলিশই তাঁর গায়ে হাত তুলেছে। জেরক্স কপি নিয়ে এসেছে বলে ভোট দিতে দিচ্ছে না। ভোটারদের বারবার হেনস্তা করা হয়েছে।
জয়ের খবর আসতেই সবুজ আবির খেলা শুরু হয় কাঁথিতে। কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি পীযূষকান্তি পন্ডা বলেন, এই বিপুল জয় প্রমাণ করে মানুষ তৃণমূলের সঙ্গে রয়েছে। কাঁথিতে অধিকারী মিথ আগেই ভেঙে চুরমার হয়েছিল। কাঁথিতে অধিকারী রাজত্বের যে পতন হয়েছে তা আবারও প্রমাণিত হল। পূর্ব মেদিনীপুর জুড়ে সমবায়ের ক্ষেত্রে শুভেন্দু অধিকারীর যে মৌরসিপাট্টা চলছিল বর্তমানে সাধারণ মানুষ তা ভেঙে দিয়েছে। তিনটি ব্যাঙ্ক যথাক্রমে তমলুক এআরডিবি, কন্টাই কো অপারেটিভ ব্যাঙ্ক, কন্টাই কার্ড ব্যাঙ্কের যে দীর্ঘদিন ধরে অরাজকতা চলছিল, সুস্থ গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ তা শেষ করেছেন।