কেন্দ্রের তথ্যই বলছে BJP শাসিত রাজ্যে ভূরিভূরি তছরুপের ঘটনা ঘটেছে, তা সত্ত্বেও মিলছে ১০০দিনের টাকা, অথচ ব্রাত্য বাংলা!

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি: অর্থ নয়ছয়ের ‘শাস্তি’ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের গরিবদের ১০০ দিনের কাজের সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে মোদী সরকার। ২০২২ সালের ৯ মার্চ থেকে বন্ধ। রাজ্য সরকার তো বটেই, পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূলের সাংসদরাও বারবার দিল্লিতে এ নিয়ে সরব হয়েছেন। কিন্তু এখনও টাকা মেটায়নি। যতদিন না তছরুপের টাকা উদ্ধার হচ্ছে, ততদিন টাকা মিলবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বাংলার বিরুদ্ধে কত টাকা তছরুপের অভিযোগ? সংসদে গ্রামোন্নয়ন রাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দ্রশেখর পেম্মাসানি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে ৫ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা আর্থিক তছরুপ হয়েছে। যার মধ্যে থেকে ২ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। অর্থাৎ শতাংশের হিসাবে ৪৪.৫ শতাংশ।
কিন্তু খোদ গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের এই রিপোর্টের কাছে বাংলার ঘটনা তো নস্য! ‘ফিন্সাসিয়াল মিসঅ্যাপ্রোপিয়েশন’ শীর্ষক মন্ত্রকের অডিট রিপোর্টে বিজেপি শাসিত রাজ্যে তো ভূরিভূরি তছরুপের তথ্য দেখা যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে গোটা দেশে ১৯৮ কোটি ৪৬ লক্ষ ৬৩ হাজার ৬৫৬ টাকা তছরুপ হয়েছে। যার মধ্যে থেকে উদ্ধার হয়েছে মাত্র ৫.২২ শতাংশ। টাকার অঙ্কে যা ১০ কোটি ৩৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৬৬৫ টাকা। বলছে মন্ত্রকের রিপোর্ট। এর মধ্যে স্রেফ ডাবল ইঞ্জিনে চলা ১৫ রাজ্যে মোট তছরুপের পরিমাণ ১০১ কোটি ৫৭ লক্ষ ৮৮ হাজার ১৩৪ টাকা। যার মাত্র ২.৭৮ শতাংশ উদ্ধার হয়েছে। টাকার অঙ্কে ২ কোটি ৮২ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৫৭ টাকা।
যার মধ্যে রয়েছে মোদী রাজ্য গুজরাত। বাদ নেই কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের রাজ্য মধ্যপ্রদেশও। বাকি অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার এবং সিকিমের মতো এনডিএ শাসিত রাজ্যেও নারেগায় আর্থিক তছরুপ হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই রিপোর্টের পরেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে স্রেফ কেন বাংলাকে বঞ্চনা? ২০২২ সালের ৯ মার্চ থেকে কেন আটকে রাখা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের গরিবদের প্রাপ্য? রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেছেন, বাংলায় মমতা বন্দ্যোধ্যায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক যুদ্ধে এঁটে উঠতে না পেরেই সরকারি প্রতিহিংসা চালাচ্ছে কেন্দ্র।