রাজ্য বিভাগে ফিরে যান

খড়্গপুরে বিজেপির দৈন্যদশা প্রকট আবারও, হিরণ অনুগামী ৬ নেতা পুরভোটে লড়বে নির্দল হিসেবে

February 10, 2022 | 2 min read

বুধবার শেষ দিনে খড়্গপুরের পাঁচটি ওয়ার্ডে নিজেদের বিক্ষুব্ধ বিজেপি দাবি করে নির্দল হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেন পাঁচজন। তাঁরা এলাকায় বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের অনুগামী বলেই পরিচিত। তাঁদের দাবি, বিধায়কের মনোনয়নে সম্মতি আছে। এই ঘটনায় নতুন করে অস্বস্তি বেড়েছে বিজেপির। যদিও বিধায়ক বলেন, ওঁরা কারা আমি জানি না। এতে সম্মতি বা অসম্মতির কোনও ব্যাপার নেই। তবে যাঁরা নিজেদের প্রার্থী হিসেবে যোগ্য মনে করেন, কিন্তু প্রার্থী হতে পারেননি, আমি তাঁদের জন্য মর্মাহত। ওঁদের কষ্ট, দুঃখ, বেদনা আমি অনুভব করি।
বিজেপির জেলা সভাপতি তাপস মিশ্র অবশ্য বলেছেন, আমরা সব ওয়ার্ডে প্রার্থী দিয়েছি। কে, কোথায়, কী দাবি করল তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না।

খড়্গপুরের পাশাপাশি মেদিনীপুরের ২৩নম্বর ওয়ার্ডে নিজেকে বিক্ষুব্ধ বিজেপি প্রার্থী দাবি করে এদিন নির্দল হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন সুমিতা বেরা।
মঙ্গলবার বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে খড়্গপুর শহরের ১০নম্বর ওয়ার্ড দাপিয়ে বেরিয়েছিলেন গেরুয়া শিবিরের বিদ্রোহী নেত্রী বেবি কোলে। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, এই এলাকায় যে বিজেপি বা ওই দলের প্রার্থীকে ভোট দেবেন তাঁকে ঘরে ঢুকে মারবেন। আগুন জ্বালিয়ে দেবেন। সেই ভিডিও ভাইরালও হয়। ঘটনায় সারা রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে। এদিন তিনি ওই ওয়ার্ড থেকে নিজেকে বিক্ষুব্ধ বিজেপি প্রার্থী দাবি করে নির্দল হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন।

গতবার ২৫নম্বর ওয়ার্ড থেকে বিজেপি প্রার্থী বেলারানি অধিকারী জয়ী হয়েছিলেন। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। আবার বিজেপিতে ফিরে আসেন। এবার ওই ওয়ার্ড সংরক্ষিত হওয়ায় দল এখানে প্রাক্তন কাউন্সিলার গৌতম ভট্টাচার্যের বউদিকে প্রার্থী করেছে। এদিন এই ওয়ার্ডে নমিতা দাস নির্দল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। বেলারানিদেবী বলেন, উনি বিজেপির বিক্ষুব্ধ প্রার্থী। আমি এই প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেছিলাম। বিধায়কও এই নাম দিয়েছিলেন। কিন্তু দল গুরুত্বই দিল না। প্রার্থী করার ক্ষেত্রে আমার সঙ্গে কোনও আলোচনাও করা হয়নি। একইভাবে ৩, ২০ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। 


এদিন হিরণ ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এসডিও অফিসে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তৃণমূলের প্রবীণ কাউন্সিলার জওহরলাল পালের সঙ্গে দেখা হলে তাঁকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন। জওহরলালবাবুও তাঁর মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করেন।

হিরণ বলেন, আমাকে হারা আসনে দলকে জিতিয়ে আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের এই সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান জানাই। বিধানসভা ভোটেও দল আমাকে হারা আসন জিতিয়ে আনার দায়িত্ব দিয়েছিল। ২২ হাজার ভোটে জেতা প্রদীপ সরকারকে হারিয়ে দলকে জিতিয়ে এনেছি। এবারও সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। 
জওহরলালবাবু বলেন, মানুষ আমাদের সঙ্গে আছেন। ২২বছর ধরে কোনওদিন হারিনি। এবারও মানুষের আশীর্বাদ পাব বলে আশাবাদী। 


এদিকে জওহরবাবুর পাশের ওয়ার্ড ৩৫ নম্বরে তাঁরই বড় বউমা জয়া পাল নির্দল হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, নির্দল প্রার্থী থাকবে না। সময় এলে দেখবেন উঠে গিয়েছে। কারণ কোনও দলীয় প্রার্থীর আত্মীয় নির্দল প্রার্থী হলে দল তা মেনে নেবে না

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#Municipal elections, #bjp, #kharagpur, #Hiran Chatterjee, #independent candidate

আরো দেখুন