আয়কর রিটার্নের নামে প্রতারণার ফাঁদ! কোন ধরনের মেসেজ থেকে সতর্ক থাকবেন?
এ বিষয়ে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগের আধিকারিকরা সকলকে সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছেন
Authored By:

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি: ইতিমধ্যেই আয়কর রিটার্নের টাকা গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে আরম্ভ করেছে। এই আবহে সক্রিয় হয়েছে প্রতারণার চক্র। সাধারণ মানুষের টাকা হাতাতে নয়া ফন্দি এঁটেছে প্রতারকের দল। ইনকাম ট্যাক্স সংক্রান্ত ভুয়ো মেসেজ পাঠিয়ে আর্থিক প্রতারণার চেষ্টা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগের আধিকারিকরা সকলকে সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছেন।
কী ধরনের মেসেজ আসছে?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার বেলেঘাটার এক বাসিন্দার কাছে গত মাসে একটি মেসেজ আসে। তিনি রাজ্য সরকারি কর্মী। মেসেজের প্রেরকের জায়গায় লেখা ছিল ভিকে-ইনকামট্যাক্স। মেসেজে লেখা রয়েছে, আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে শীঘ্রই আয়কর রিটার্ন বাবদ ১৫ হাজার ৪৯০ টাকা পাঠানো হবে। দয়া করে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরটি যাচাই করে নিন। সেটি ভুল হলে, নীচে দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করে সেটি সঠিক করে নিন। মেসেজের শেষে রয়েছে লিঙ্কটি। লিঙ্কটির ওয়েব অ্যাড্রেস— ‘https://bit.ly/20wpYK6’।
এরপর সেই সরকারি কর্মী দেখেন তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভুল রয়েছে। সংশোধনের জন্য তিনি ওই লিঙ্কে ক্লিক করেন। এরপরই ফোনের যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতারকদের হাতে চলে যায়। ফোনের মেসেজ সিস্টেমটিও প্রতারকদের মোবাইলে ফরোয়ার্ড হয়ে যায়। এরপর ওই সরকারি কর্মীর ব্যাঙ্ক থেকে দু-বারে ৩২ হাজার টাকা উধাও হয়েছে।
পুলিশ জানাচ্ছে, আয়কর রিটার্নের টাকা ঢোকার এই সময়টাকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে জামতাড়া গ্যাং। লিঙ্কে ক্লিক করলেই গ্রাহকের ফোনে ডাউনলোড হয়ে যাবে রিমোট অ্যাকসেস অ্যাপ। এমন অ্যাপ ফোনে ডাউনলোড হলে, ফোনের মাধ্যমে করা যাবতীয় কাজকর্ম দূর থেকে দেখা যায়। ফোনের মেসেজের কন্ট্রোল পেয়ে যাওয়ায়, ওটিপিও প্রতারকদের মোবাইলেই আসতে আরম্ভ হয়। সেই ওটিপি কাজে লাগিয়েই গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে ঠকবাজরা। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, গ্রাহকদের সঠিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরই আয়কর দপ্তরের কাছে থাকে। ভুল হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। তাই এহেন মেসেজে বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ করছে লালবাজার। পুলিশ তরফে জানা গিয়েছে, প্রতারণার এই নয়া ফাঁদ নিয়ে ইতিমধ্যেই সমাজ মাধ্যমে সচেতনতার প্রচার শুরু হয়েছে।