দেশ বিভাগে ফিরে যান

CAA-র আড়ালেই NRC? সিঁদুরে মেঘ দেখছেন অসমের বাঙালিরা

April 17, 2024 | 2 min read

সিঁদুরে মেঘ দেখছেন অসমের বাঙালিরা

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি: দেশে লাগু হয়েছে সিএএ, অসমের বরাক উপত্যকার বাঙালিরা এখন চরম অনিশ্চিয়তার মধ্যে দিন গুজরান করছেন। ভারতীয় হওয়ার যাবতীয় প্রমাণপত্র জমা দিয়েও এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা থেকে যাঁরা বাদ পড়েছেন, সিএএর জন্য এখন তাঁরাই বাংলাদেশি নথি খুঁজছেন। বরাক উপত্যকার প্রায় ৯৬ হাজার হিন্দু বাঙালিকে এক মুহূর্তে নিজভূমে ভিনদেশি হয়ে যেতে হয়েছিল। ২০১৪ সালে পদ্ম পার্টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সমাধান হবে। ভরসা করেছিল গোটা অসমের বাঙালিরা। ২০১৯ সালের আগস্টে প্রকাশিত এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ গিয়েছিল ১৯ লক্ষের বেশি বাঙালির নাম! ২৩ লক্ষরও বেশ মানুষের আধার কার্ড ফ্রিজ হয়ে গিয়েছিল। নাম বাদ যায় ভোটার তালিকা থেকেও, বন্ধ হয় রেশনও।

অনিশ্চিয়তায় দিন কাটানো অসমের বাঙালিরা এখন সতর্ক করছেন বাংলার বাঙালিদের। করছেন বরাকের আমড়াঘাটের অজিত দাস, শিলচরের কাটিগোড়ার বৃদ্ধা অঞ্জলি রায়, শিলং বস্তির পিণাকী দাস, উধারবন্দের দুলুবি বিবিদের মতো আরও অনেকেই বাংলার মানুষদের বলছেন, সিএএর ফাঁদে পা দেবেন না। তাদের দাবি, আইনের তফসিল ১এ অনুযায়ী যে’সব নথিপত্র জমা করতে বলা হচ্ছে, তার একটিও কারও পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়! ভুক্তভোগী বাঙালিদের কথায়, সিএএর সঙ্গেই আছে এনআরসি। আজ বা কাল সেটাও আসবে বাংলায়।

জনৈক অজিত দাসের কথায়, ১৯৫৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে তাঁর দাদু-বাবা পালিয়ে এসেছিলেন। হাইলাকান্দির মনচরা উদ্বাস্তু ক্যাম্পে মিলেছিল আশ্রয়। এক কাপড়ে দেশ ছেড়ে আসা মানুষের কাছে প্রমাণ বলতে ছিল উদ্বাস্তু সার্টিফিকেট। ২০১৪ সালে সন্দেহজনক ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হন অজিত দাস। তিন মাস শিলচরের ডিটেনশন ক্যাম্পে ছিলেন। উদ্বাস্তু সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলেন কিন্তু ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল তা মানেনি। ২০২১ সালে বিদেশি নাগরিক বলে চিহ্নিত হন তিনি। অজিতের দাবি, হিন্দুরা সব সিএএতে আবেদন করলেই হবে, এমন প্রচার চলছে! মানে ভারতীয় প্রমাণের লড়াই থেকে সরে এসে নিজেদের এবার বিদেশি মানতে হবে? সিএএ কার্যকর করার দাবিতে আন্দোলন করেছিল অল অসম বেঙ্গলি হিন্দু অ্যাসোসিয়েশন। সেই সংগঠনের সভাপতি বাসুদেব শর্মা আক্ষেপের সুরে বলছেন, এভাবে সিএএ চালু হবে বুঝিনি। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, পালিয়ে আসা লোকজন এতসব নথি পাবে কোথায়? আবেদনকারীর সেল্ফ ডিক্লেয়ারেশনের ভিত্তিতেই দেওয়া হোক নাগরিকত্ব। কিন্তু আদৌ কি সে দাবি মঞ্জুর হবে? প্রশ্ন থেকেই যায়।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

#bengalis, #CAA, #Bengal, #NRC, #assam

আরো দেখুন