শাহী বৈঠকে গরহাজির শান্তনু-সুব্রত-অনন্ত মহারাজরা! SIR আবহে BJP থেকে সরছে মতুয়া, রাজবংশী ভোট?

January 1, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি,১৩:৩০: SIR আবহে কি বিজেপি থেকে মতুয়া, রাজবংশী ভোট সরে যাচ্ছে? সল্টলেকে দলের বিধায়ক-সাংসদদের নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বসেছিলেন। বুধবারের সেই বৈঠকে ছিলেন না দলের দুই মতুয়া প্রতিনিধি বনগাঁর সাংসদ শান্তনু ঠাকুর এবং তাঁর ভাই বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর। ছিলেন না মতুয়া সম্প্রদায়ের আর এক বিধায়ক অসীম সরকার। আমন্ত্রণ সত্ত্বেও বৈঠকে আসেননি রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ।

ইতিমধ্যেই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। আশঙ্কা সত্যি হয়েছে। খসড়া তালিকা বেরোতে দেখা যাচ্ছে, বিপুল সংখ্যক মতুয়া ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এই আবহে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের মন্তব্যে নতুন করে উসকে উঠেছে বিতর্ক। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন—‘এক লক্ষ মতুয়ার নাম বাদ যাচ্ছে। সেটা সহ্য করে নিতে হবে।’ অথচ এর আগে তিনিই বলেছিলেন সবার নাম থাকবে। যদি কারও নাম বাদ যায় তিনি CAA-র মাধ্যমে নাম তুলিয়ে দেবেন বলেও জানিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর গত কয়েক মাস ধরে দাবি করে যাচ্ছিলেন, ‘সবাই পাবেন নাগরিকত্ব, সবার নাম থাকবে ভোটার তালিকায়।’ ঠাকুরনগরে ‘ক্যাম্প’ করে হিন্দু প্রমাণের ‘শংসাপত্র’ বিলি করা হয়েছিল। স্বয়ং শান্তনু ঠাকুর তাতে স্বাক্ষরও করেছিলেন। কিন্তু এখন কোথায় গেল তাঁর দাবি! মতুয়াদের উদ্দেশ্যে শান্তনুর পরামর্শ, ‘‘মতুয়াদের একটু সহ্য করে নেওয়া উচিত।’’

সম্প্রতি নদীয়ার তাহেরপুরের সভায় টেলিফোন বার্তায় মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি প্রধানমন্ত্রী। পরে এক্স-হ্যান্ডলের বার্তাতেও মতুয়াদের ভোটাধিকার নিয়ে কোনও সদর্থক কথা বলেননি মোদী। সদ্য কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে অমিত শাহও মতুয়াদের নেই কোনও মন্তব্য করেননি। পরে এক সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অমিত শাহ মতুয়াদের প্রসঙ্গে বললেও, আশাব্যাঞ্জক উত্তর দেননি।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, বনগাঁ মহকুমার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে যথাক্রমে বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, গাইঘাটা ও বাগদায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ভোটারের হদিশ মিলেছে, যাঁদের নিজেদের এবং বাবা-মা সহ আত্মীয়স্বজনের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না। সাফ কথায় যাঁদের ম্যাপিং হয়নি। যার মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষ মতুয়া সম্প্রদায়ের। শান্তনুর দাদা গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর আগেই এমনটা দাবি করেছিলেন। এক লক্ষ মতুয়ার নাম বাদ যাবে, এ তথ্য শান্তনু ঠাকুর কোথায় কোথা থেকে? উঠছে প্রশ্ন উঠেছে। মতুয়াদের নিয়ে মোদী, অমিত শাহ ও বিজেপির প্রতিশ্রুতি কোথায় গেল?

অপরদিকে, রাজ্যসভা সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্কের ফাটল আগেই প্রকাশ পেয়েছিল। এবার তা আরও বাড়ল। শোনা যাচ্ছে, বৈঠকে আসার জন্য অনন্ত মহারাজকে ডাকা হলেও তাঁকে স্থান জানানো হয়নি। তৈরি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি যেতে পারেননি। শাহর বৈঠকে শান্তনু ও সুব্রত ঠাকুর এবং মতুয়াদের আর এক প্রতিনিধি বিধায়ক অসীম সরকারের অনুপস্থিতি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে। শাহর বৈঠকে চার জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতি ভোটের আগে মতুয়া ও রাজবংশী ভোট নিয়ে বিজেপির চিন্তা বাড়াল।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen