ইউনুসের বাংলাদেশে ফের আক্রান্ত সংখ্যালঘু, এবার হিন্দু প্রৌঢ়কে কুপিয়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৮:১০: বাংলাদেশে ইউনুস সরকারের আমলে থামছে না সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার। বাংলাদেশের শরীয়তপুর জেলায় এক হিন্দু প্রৌঢ় কট্টরপন্থী জনতার হামলার শিকার হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয় এবং পরে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন থামার কোনো লক্ষণ নেই।
জানা গিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির নাম খোকন দাস (৫০)। গত ৩১ ডিসেম্বর, অর্থাৎ বছরের শেষ দিনে যখন বিশ্বজুড়ে উৎসবের আমেজ, তখনই এই ভয়াবহ হামলার শিকার হন তিনি। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ঘটনার দিন খোকন দাস নিজের বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময়ই একদল কট্টরপন্থী দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকায় এবং তাঁর ওপর চড়াও হয়। ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হন তিনি। এরপরই ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারীরা, জখম অবস্থাতেই ওই প্রৌঢ়কে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়।
সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দুদের ওপর এটি লাগাতার চতুর্থ বড় আক্রমণের ঘটনা। এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কালিমোহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় অমৃত মণ্ডল নামে ২৯ বছরের এক যুবককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে। তারও আগে, ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ২৫ বছরের যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যার পর ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং শেষে তাঁর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
মহম্মদ ইউনুস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলাদেশে হিন্দু-সহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি বারবার এই বিষয় নিয়ে সরব হয়েছে। দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যার পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও কড়া বিবৃতি দিয়ে পদ্মাপাড়ের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। যদিও ইউনুস প্রশাসন আন্তর্জাতিক মহলের এই উদ্বেগ মানতে নারাজ। তাদের দাবি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা নিরাপদেই আছেন এবং এই হত্যাগুলি নিছকই ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’।