ভারতের জন্যও বড় বিপদ! বালোচিস্তানে চীনা সেনা নিয়ে জয়শঙ্করকে সতর্ক করে চিঠি বালোচ নেতার

January 2, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৮:১০: কয়েক মাস আগেই পাকিস্তান সরকারের শাসন থেকে বালোচিস্তানকে (Balochistan) ‘স্বাধীন’ ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। এবার সরাসরি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে (S Jaishankar) খোলা চিঠি লিখলেন বালোচ নেতা মির ইয়ার বালোচ। চিঠিতে বালোচিস্তানে চীনা সেনাবাহিনীর সম্ভাব্য উপস্থিতি নিয়ে ভারতকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন এই বিদ্রোহী নেতা।

চীন (China) এবং পাকিস্তানের স্বপ্নের প্রকল্প ‘চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর’ (CPEC) বালোচিস্তানের বুক চিরে গিয়ে শেষ হয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের গ্বাদর বন্দরে। মিরের দাবি, এই অর্থনৈতিক করিডর তৈরির আড়ালেই বালোচ ভূখণ্ডে নিজেদের সেনা মোতায়েন করার বড়সড় ছক কষছে বেজিং।

জয়শঙ্করকে লেখা চিঠিতে মির ইয়ার বালোচ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “এই মুহূর্তে বালোচিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার না করলে এবং বালোচ স্বাধীনতা যোদ্ধাদের শক্তিশালী না করলে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বালোচিস্তানে পুরোদমে সেনা মোতায়েন করে ফেলবে চীন।” তাঁর মতে, এমনটা ঘটলে তা কেবল বালোচিস্তানের ৬ কোটি মানুষের অস্তিত্বের সংকট হবে না, বরং ভারতের নিরাপত্তার জন্যও এক বড় বিপদ ডেকে আনবে।

দীর্ঘদিন ধরেই পাক-প্রশাসনের বিরুদ্ধে শোষণ ও অত্যাচারের অভিযোগ তুলে স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে বালোচরা। ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছিল, বালোচ বিদ্রোহীরাও ভারতের কাছে সেই একই সহযোগিতার প্রত্যাশা রাখেন। বালোচ নেতাদের একাংশ চাইছেন, ভারত সরকার তাঁদের স্বাধীনতার লড়াইয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিক। উল্লেখ্য, গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়েও বালোচ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে নয়াদিল্লির পাশে দাঁড়িয়েছিল। মির তাঁর চিঠিতে সেই সমর্থনের কথাও বিদেশমন্ত্রীকে মনে করিয়ে দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, বালোচিস্তানের স্বাধীনতার ইতিহাস ও বর্তমান সংঘাত বেশ পুরনো। ১৯৪৭ সালের ১১ আগস্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল দেশীয় রাজ্য কালাত। পরের দিনই শাসক মির সুলেমান দাউদ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বাধীনতার মেয়াদ ছিল মাত্র সাত মাস। ১৯৪৮ সালের ২৭ মার্চ পাকিস্তানি সেনা বলপূর্বক বালোচিস্তান দখল করে বলে অভিযোগ। বালোচ নেতাদের দাবি, পাকিস্তানের সবচেয়ে সম্পদশালী প্রদেশ হওয়া সত্ত্বেও বালোচিস্তান আজ চরম অবহেলার শিকার। বিশেষ করে ‘সিপিইসি’ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে বালোচ প্রাকৃতিক সম্পদের লুঠতরাজ আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen