অমর একুশের ছুটি উধাও, কোপ সরস্বতী পুজো, জন্মাষ্টমী এবং মে দিবসেও! পথ হারাচ্ছে বাংলাদেশ?
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৫:৩৬: বরকতদের বলিদান কি ভুলিয়ে দিতে চাইছে নতুন বাংলাদেশ? ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিল যাঁরা, তাঁদের ইতিহাস মুছতে উদগ্রীব বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। অন্তত ২০২৬ সালের জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ছুটির বিজ্ঞপ্তি ঘিরে তেমনই মনে হচ্ছে।
ধর্ম ছাপিয়ে ভাষার জন্য একজোট হয়েছিল বাঙালি। অমর একুশের ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লেখা। এবার সেই আবেগ মুছতে উঠে পড়ে লেগেছে মহম্মদ ইউনূসের অন্তবর্তী সরকার। বাতিল হয়েছে ২১ ফেব্রুয়ারির ছুটি।
কেবল ভাষা আন্দোলন ও শহিদ দিবস নয়, ২০২৬ সালের শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা থেকে বাদ পড়েছে সরস্বতী পুজো, জন্মাষ্টমী এবং মে দিবসের ছুটিও। শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে। মনে করা হচ্ছে, আগামীতে সর্বস্তরে এই ছুটি বাতিলের ভাবনায় রয়েছে বাংলাদেশের কট্টরপন্থী নেতারা।
২০২৫ সালের শেষে নতুন বছরের ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। ছুটির সেই তালিকায় কোথাও ভাষা শহিদ দিবসের উল্লেখ নেই। ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। একাংশের অভিযোগ, ইউনূসের সরকার ভাষা আন্দোলনকে মুছে ফেলতে চাইছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সমর্থক তথা কট্টরপন্থীদের সাফাই, ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার পড়েছে। শুক্র এবং শনিবার বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তাই আলাদা করে ভাষা শহিদ দিবসের কথা উল্লেখ করা হয়নি। নিয়ম অনুসারে, সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও আলাদা করে ভাষা শহীদ দিবসের উল্লেখ থাকা উচিত ছিল। অতীতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অন্য সরকারি ছুটি পড়লে দিনটিতে সরকারি ছুটির ঘোষণা করা হত।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি পড়েছিল শুক্রবার। যা বাংলাদেশের সাপ্তাহিক সরকারি ছুটির দিন। সরকারি ছুটির বিজ্ঞপ্তিতে ওই দিনটিকে ভাষা শহিদ দিবসের ছুটি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। যা এ বছরে করা হয়নি। বিতর্ক তা নিয়েই। ইউনূস সরকারের আমলে এই প্রথম ২১ ফেব্রুয়ারির উল্লেখ সরকারি ছুটির দিনের তালিকায় রইল না। এই বিষয়ে ইউনূস সরকারের তরফে কিছু জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রেরা উর্দুর বদলে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলন থামাতে গুলি চালায় পাক পুলিশ। পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় বরকত, সালাম, রফিক, জব্বরদের। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশ ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ‘শহীদ দিবস’ হিসাবে পালন করে। ভাষা শহিদদের সম্মান জানিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে ইউনেস্কো ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।