দেশপ্রেম কি আবার ফিরছে বড়পর্দায়? ‘ব্যর্থ’ ২০২৫-এর পর নতুন করে বাজি ধরছে বলিউড

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৩.১৫: এক সময় যে ঘরানার ওপর ভর করে বলিউড বারবার দর্শক টেনেছে, সেই যুদ্ধ ও দেশপ্রেমভিত্তিক সিনেমা ২০২৫ সালে এসে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছিল। বীরত্ব, আত্মত্যা এর মতো আবেগঘন বিষয় থাকা সত্ত্বেও গত বছরের বেশিরভাগ ছবি বক্স অফিস কিংবা সমালোচকদের মন জয় করতে পারেনি। তবুও প্রশ্ন উঠছে—এই ব্যর্থতার পর কি বলিউড দেশপ্রেমের গল্প বলা থেকে সরে আসছে? আপাতত তার উত্তর ‘না’। বরং আসন্ন ছবির তালিকা বলছে, এই ঘরানাকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনতেই আরও একবার ঝাঁপাচ্ছেন নির্মাতারা।
বছরের শুরুতেই মুক্তি পেয়েছে ‘ইক্কিস’। জানুয়ারি ১-এ মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি ভারতের সবচেয়ে কমবয়সী পরম বীর চক্র প্রাপক, সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট অরুণ খেতরপালের জীবনের গল্প বলেছে। ১৯৭১ সালের ভারত-পাক যুদ্ধের সময় মাত্র ২১ বছর বয়সে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন তিনি। শ্রীরাম রাঘবন পরিচালিত এই ছবি বড় বাজেটের যুদ্ধদৃশ্যে ভর না করলেও, বাস্তব ও অনুপ্রেরণামূলক কাহিনির জোরেই আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। ছবিটি আরও স্মরণীয় কারণ এটিই কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্রের শেষ ছবি, পাশাপাশি এতে অভিনয় করেছেন জয়দীপ আহলাওয়াত এবং থিয়েটারে প্রথমবারের মতো দেখা গেছে আগস্ত্য নন্দা কে।
এই মাসের শেষেই দর্শকের সামনে আসছে ‘বর্ডার ২’। ১৯৯৭ সালের আইকনিক ছবি ‘বর্ডার’-এর এই আধ্যাত্মিক সিকুয়েল মুক্তি পাচ্ছে ২৩ জানুয়ারি। সানি দেওল, বরুণ ধাওয়ান, আহান শেঠি এবং দিলজিৎ দোসাঞ্জকে নিয়ে তৈরি এই ছবি পুরোপুরি থিয়েটার-কেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা দিতে চাইছে। ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে, বড় স্কেল, তারকাখচিত কাস্ট ও নস্টালজিয়াই এই ছবির মূল শক্তি।
২০২৫ সালে দেশপ্রেমভিত্তিক ছবির ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রেড বিশ্লেষক রোহিত জৈস্বাল স্পষ্ট বলেন, সমস্যাটা দেশপ্রেমে নয়, সমস্যাটা বাস্তবায়নে। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক বেশিরভাগ ছবিতেই বড় তারকার অভাব ছিল। যুদ্ধভিত্তিক ছবি কখনওই নিস বা ক্লাসি আকারে কাজ করে না—এগুলোকে হতে হয় ‘ম্যাসি’। গান, আবেগ, স্কেল এবং পরিচিত মুখ—সবকিছুর সমন্বয় না থাকলে সাধারণ দর্শক হলমুখো হন না।
এই তালিকায় ব্যতিক্রম ছিল ‘কেসারি চ্যাপ্টার ২’। অক্ষয় কুমার অভিনীত ছবিটি বড় সাফল্য না পেলেও, বক্স অফিসে সম্মানজনক ব্যবসা করে দেখিয়ে দিয়েছে যে সঠিক প্যাকেজিং থাকলে দেশপ্রেম এখনও কাজ করে।
এবার নজর ঘুরছে ‘দ্য ব্যাটল অফ গালওয়ান’-এর দিকে। ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল মুক্তির লক্ষ্যে তৈরি এই ছবি ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের ওপর ভিত্তি করে। সালমান খান অভিনীত এই ছবিতে ভিএফএক্স বা বড় অস্ত্রের বদলে থাকবে হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কমব্যাট ও বাস্তবতার ছোঁয়া। ট্রেড বিশেষজ্ঞদের মতে, একটানা ব্যর্থতার পরেও সালমান খানের স্টারডম এখনও অটুট, আর এই ছবিই হতে পারে তাঁর কামব্যাকের হাতিয়ার।
শুধু বড়পর্দাই নয়, দেশপ্রেম ও ইতিহাসের গল্পে ঝুঁকছে OTT প্ল্যাটফর্মও। Prime Video নিয়ে আসছে ‘The Revolutionaries’, যেখানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়া তরুণ বিপ্লবীদের গল্প তুলে ধরা হবে। অন্যদিকে SonyLiv-এর ‘Freedom at Midnight’ সিজন ২ ফিরছে দেশভাগ ও সেই সময়কার রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের গভীর বিশ্লেষণ নিয়ে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সাম্প্রতিক ব্যর্থতা সত্ত্বেও বলিউড দেশপ্রেমের গল্প বলা ছাড়েনি। প্রশ্ন শুধু একটাই—এই নতুন ছবিগুলো কি পুরনো আবেগকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলতে পারবে? তার উত্তর মিলবে আসন্ন মুক্তির সঙ্গেই।