না জেনেই খান? এই ৫ সবজি বাড়াতে পারে ইউরিক অ্যাসিড ও গাঁটের ব্যথা

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৭:৫৭: দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় সবজি প্রায় রোজই থাকে। পালংশাক, টমেটো, বিট, মটরশুঁটি—স্বাদে–পুষ্টিতে সমৃদ্ধ এই সব উপাদান বহু ঘরেই নিয়মিত খাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, যাঁদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি, তাঁদের কিছু খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ কিছু সবজিতে পিউরিনের মাত্রা তুলনামূলক বেশি, যা সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ইউরিক অ্যাসিড বাড়াতে পারে।
কোন কোন সবজি নিয়ে বাড়ছে সতর্কতার প্রয়োজন?
যাঁদের ইউরিক অ্যাসিড স্বাভাবিক থাকে, তাঁদের জন্য সাধারণত এই সবজি খাওয়া সমস্যা নয়। কিন্তু যাঁদের শরীরে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে থাকে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা কয়েকটি খাবারে সংযমের পরামর্শ দেন—
(তালিকাটি সাধারণ স্বাস্থ্য–নির্দেশনার ভিত্তিতে দেওয়া, নির্দিষ্ট চিকিৎসা নয়)
পালংশাক – পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও পিউরিনের মাত্রা বেশি, তাই গেঁটেবাত রোগীদের ক্ষেত্রে সংযম প্রয়োজন।
মটরশুঁটি (Green peas) – প্রোটিন সমৃদ্ধ; তবে পরীক্ষায় ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে খাওয়ার পরিমাণ কমাতে বলা হয়।
রাজমা ও ছোলা জাতীয় ডাল – উদ্ভিজ্জ প্রোটিনে সমৃদ্ধ, পিউরিনও তুলনামূলক বেশি।
বিটরুট – কিছু ক্ষেত্রে সংবেদনশীল রোগীদের ইউরিক অ্যাসিড ট্রিগার করতে পারে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শে খান।
ফুলকপি – পুষ্টিকর হলেও পিউরিন-সমৃদ্ধ সবজির তালিকায় আছে; ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে থাকলে সীমিত খাওয়া ভাল।
ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে কী সমস্যা হতে পারে?
ইউরিক অ্যাসিড অতিরিক্ত জমলে শরীরে ক্রিস্টাল তৈরি হয়ে গাঁট, হাড়, আঙুল, হাঁটুতে ব্যথা, ফোলা ও জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে। একে সাধারণভাবে গেঁটেবাত বা গাউট বলা হয়। দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনির উপরও চাপ পড়ে।
কী কী খাবেন?
ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে সাধারণত চিকিৎসকেরা যা পরামর্শ দেন—
প্রচুর জল, লাউ–ঝিঙে–করলা–ডাঁটা জাতীয় কম পিউরিনের সবজি
হালকা সেদ্ধ/অল্প মসলায় রান্না
নিয়মিত হাঁটা–ব্যায়াম জরুরী
সবজি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শরীরে যদি ইউরিক অ্যাসিড বাড়ে, তবে পাতে দৈনন্দিন কী রাখবেন আর কী রাখবেন না—তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ সবার শরীরের প্রতিক্রিয়া এক নয়। সঠিক ডায়েট, জলপান ও নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষাই পারে গাঁটের ব্যথার ঝুঁকি কমাতে।