স্বরূপনগরে শুনানি থেকে ফিরেই ‘SIR আতঙ্কে’ মৃত্যু বৃদ্ধের, ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার

January 1, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৪:৪৫: নতুন বছরের শুরুতেই মর্মান্তিক ঘটনা উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) স্বরূপনগরে। ফের রাজ্যে ‘এসআইআর (SIR) আতঙ্কে’ এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। মৃতের নাম সুলতান সর্দার (৬০)। পরিবারের দাবি, নথিপত্রে গলদ থাকায় শুনানির পর থেকেই তীব্র আতঙ্কে ভুগছিলেন ওই বৃদ্ধ। বৃহস্পতিবার সকালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, স্বরূপনগর থানার অন্তর্গত স্বরূপদা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন সুলতান সর্দার (Sultan Sardar)। তিনি দীর্ঘকাল ধরেই ওই এলাকায় বসবাস করছেন। সম্প্রতি সরকারি নথিপত্র যাচাইয়ের বা SIR-র প্রক্রিয়া শুরু হলে তাঁর কাগজপত্রে কিছু অসংগতি ধরা পড়ে। বিশেষ করে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। এই মর্মে দিন পাঁচেক আগে প্রশাসনের তরফে তাঁর বাড়িতে একটি শুনানির নোটিস পাঠানো হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নোটিস পেয়ে গত ২৭ ডিসেম্বর স্বরূপনগর বিডিও অফিসে শুনানির জন্য যান সুলতান। অভিযোগ, সেখানে আধিকারিকরা তাঁকে জানান যে তাঁর নথিপত্রে সমস্যা রয়েছে। এরপর বাড়ি ফেরার পর থেকেই চরম মানসিক অবসাদ ও আতঙ্কে ভুগছিলেন তিনি। পরিবারের দাবি, এই দুশ্চিন্তার জেরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শেষমেশ বৃহস্পতিবার সকালে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃতের স্ত্রী দিলওয়ারা বিবি বলেন, ‘‘২০০২ সালে আমার স্বামী ভিন্‌রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন। সেই সময় বাড়িতে না থাকায় শ্বশুর-শাশুড়ির নাম ভোটার তালিকায় উঠলেও স্বামীর নাম ওঠেনি। গত ২৭ ডিসেম্বর বিডিও অফিসে শুনানিতে গেলে তাঁকে কাগজপত্রের গরমিলের কথা বলা হয়। বাড়ি ফিরে ও খুব ভেঙে পড়েছিল। বারবার বলছিল, ‘এই বয়সে সন্তান-পরিবার ছেড়ে কোথায় যাব?’ সেই দুশ্চিন্তাতেই ওর প্রাণ গেল।’’

বাবার মৃত্যুতে প্রশাসনের ভূমিকা ও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সুলতানের ছেলে ওসমান সর্দার। তিনি বলেন, ‘‘এসআইআর-এর আতঙ্কেই আমার বাবার মৃত্যু হল। বাবার মতো আমরাও আতঙ্কে আছি। অবিলম্বে এই এসআইআর বন্ধ করা হোক। না হলে আমরা কেউ বাঁচব না, আমাদেরও মৃত্যু হবে।’’

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen