বছরের শুরুতেই উত্তর সিকিমে প্রবল তুষারপাত, শিশুসহ আটকে আলিপুরদুয়ারের ৬ পর্যটক

January 1, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ২১:১৩: বছরের শুরুতেই সিকিম ভ্রমণে গিয়ে বড়সড় বিপত্তির মুখে পড়লেন রাজ্যের পর্যটকরা। উত্তর সিকিমে (North Sikkim) প্রবল তুষারপাতের জেরে আটকে পড়েছেন আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) ৬ জন পর্যটক। ওই পর্যটক দলে একটি শিশুও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে আটকে পড়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁদের। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেনি।

শীতের শুরু থেকেই উত্তর ও পূর্ব সিকিমের উঁচু এলাকাগুলিতে তুষারপাত শুরু হয়েছিল। নাথু-লা থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা এখন বরফের চাদরে ঢাকা। ইংরেজি নববর্ষের শুরুতে সেই তুষারশুভ্র নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করতেই ভিড় জমিয়েছিলেন পর্যটকরা। কিন্তু বছরের প্রথম দিনেই উত্তর সিকিমের ইয়ুমথাং ভ্যালিতে গিয়ে বিপদের মুখে পড়েন আলিপুরদুয়ারের ওই পর্যটক দলটি।

জানা গিয়েছে, হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করে এবং প্রবল তুষারপাত (Heavy snowfall) শুরু হয়। বরফে রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ ঢেকে যাওয়ায় গাড়ি চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে। আলিপুরদুয়ারের ৬ জন ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বহু পর্যটক (Tourist) সেখানে আটকে পড়েছেন।

আটকে পড়া পর্যটক বিকাশ ভৌমিক জানান, “উত্তর সিকিম থেকে ফেরার পথে দুপুরের দিকে তুষারপাত শুরু হয়। রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় আমাদের গাড়ির চাকা পিছলে খাদের কিনারে চলে যাচ্ছিল। বিপদ বুঝে চালক আমাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেন। এরপর প্রায় ৪ ঘণ্টা আমরা বরফের মধ্যে হেঁটেছি। কোনও উদ্ধারকারী দল আসেনি। অবশেষে সামনে একটি তালাবন্ধ ঘর দেখতে পেয়ে, প্রাণ বাঁচাতে তালা ভেঙে আমরা সেখানে আশ্রয় নিই। পরে স্থানীয় মানুষজন আমাদের উদ্ধার করে কিছুটা নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে এসেছেন।”

প্রচণ্ড ঠান্ডায় শিশু-সহ পর্যটকরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। দ্রুত তাঁদের উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে, পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়া খারাপ থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে আটকে পড়া পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে আলিপুরদুয়ারে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen