ভোর থেকে দীর্ঘ লাইন, দুপুরে রাজকীয় ভোগ, বছরের প্রথম দিনে পুণ্যার্থীদের ঢল তারাপীঠে

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৯:১৬: ইংরেজি ক্যালেন্ডারের প্রথম দিন। উৎসবের মেজাজ সারা বাংলা জুড়ে। একদিকে যেমন কল্পতরু উৎসব উপলক্ষে দক্ষিণেশ্বর, কাশীপুর উদ্যানবাটি ও কামারপুকুরে ভক্তদের ঢল নেমেছে, তেমনই পিছিয়ে নেই বীরভূমের অন্যতম শক্তিপীঠ তারাপীঠও (Tarapith)। বছরের প্রথম বৃহস্পতিবার কাকভোর থেকেই ভক্তি আর বিশ্বাসের এক অনন্য ছবি ধরা পড়ল তারাপীঠ মন্দির চত্বরে। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে এবং মায়ের আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ।
এদিন বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে তারাপীঠ মন্দির চত্বরকে অপরূপ আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়। ভোরবেলায় গর্ভগৃহের দ্বার খোলার আগে নিয়ম মেনে মাকে স্নান করানো হয় এবং সম্পন্ন হয় মঙ্গল আরতি। যদিও ভোররাত থেকেই হাতে ফুল, মালা ও প্রসাদের ডালা নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন ভক্তরা। বছরের প্রথম দিনে মায়ের একঝলক দর্শন পেতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতেও দ্বিধা করেননি পুণ্যার্থীরা।
ভিড়ের কথা মাথায় রেখে মন্দির কমিটি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে অসুস্থ এবং বয়স্ক পুণ্যার্থীদের জন্য মানবিক উদ্যোগ নেয় মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাঁদের যাতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট পেতে না হয়, সে জন্য সরাসরি গর্ভগৃহে পৌঁছে পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
দুপুরে মা তারাকে নিবেদন করা হয় বিশেষ রাজকীয় ভোগ। ভোগের মেনুতে ছিল ভাত, ডাল, সবজি, পোলাও, শোলমাছ পোড়া এবং পাঁচ রকম ভাজা। মিষ্টিমুখের জন্য ছিল পাঁচ রকম মিষ্টি ও পায়েস। এছাড়া শাক্তপীঠের রীতি মেনে বলির পাঁঠার মাংসও মাকে নিবেদন করা হয়। সন্ধ্যারতিতেও ছিল বিশেষ আয়োজনের ছোঁয়া। মন্দিরের পাশাপাশি তারাপীঠের মহাশ্মশানেও সকাল থেকে ভক্তদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন ভক্ত সমাগম ছিল অনেক গুণ বেশি। তাই ভিড় সামলাতে এবং যে কোনও ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মন্দির চত্বর মুড়ে ফেলা হয়েছিল কড়া নিরাপত্তার চাদরে। মোতায়েন করা হয়েছিল বাড়তি পুলিশ বাহিনী।