ছাব্বিশের আগে ‘ঘর ওয়াপসি’, তৃণমূল ছেড়ে ফের ‘হাত’ ধরে কী বললেন মৌসম নূর?

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৬:২১: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে বড় চমক। অবশেষে ‘ঘর ওয়াপসি’ হলো গনি-ভাগ্নীর। তৃণমূল ছেড়ে ফের কংগ্রেসে ফিরলেন রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নূর (Mausam Noor)। তাঁর এই দলবদলের ফলে দীর্ঘ সময় পর মালদহের বিখ্যাত কোতওয়ালি পরিবার ফের একজোট হয়ে কংগ্রেসের (Congress) পতাকা তলে এল।
কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর মৌসম বলেন, ”এটা পুরোপুরি পরিবারের সিদ্ধান্ত। আমরা যেহেতু এক পরিবার আলাদা দলে থেকে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছিল। আমরা গণিখানের লিগ্যাসিটাকে ধরে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের রাজনীতিতে আসা ওনাকে দেখেই। আমরা কংগ্রেসকে শক্তিশালী করতে চাই। গণিখানের লিগ্যাসিকে শক্তিশালী করতে চাই। আমি কংগ্রেস দলের মাধ্যমেই আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলাম, আজ আবার সেই কংগ্রেস দলেই যোগ দিলাম এবং আমার খুব ভালো লাগছে। আমি কংগ্রেসকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করব। কংগ্রেস দল আমাকে যে দায়িত্বই দেবে, আমি তা পালন করব…”
এছাড়াও সদ্য তৃণমূল ত্যাগী সাংসদ বলছেন, “কয়েক বছর তৃণমূল ছিলাম। অনেক সুযোগ দিয়েছে কাজ করার। সাংসদ হিসাবেও কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। সেজন্য মমতাদিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কিন্তু আমার দলবদলের সিদ্ধান্তটা সম্পূর্ণ পারিবারিক।”
শনিবার রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েই পুরনো দলে ফেরার কথা ঘোষণা করেন মৌসম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মৌসমের এই প্রত্যাবর্তনে মালদহে কংগ্রেসের গড় আরও মজবুত হলো। কোতওয়ালি পরিবারের সদস্যরা ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে থাকায় গত কয়েক বছরে মালদহের ভোটব্যাঙ্কে যে ফাটল ধরেছিল, মৌসমের কংগ্রেসে ফেরার ফলে তা ভরাট হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
২০০৯ সালে মালদহ উত্তর লোকসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের প্রতীকে জয়ী হয়ে সংসদে পা রাখেন গনি খান চৌধুরীর ভাগ্নি মৌসম বেনজির নুর। ২০১৪ সালেও একই প্রতীকে দ্বিতীয়বার সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে পরিস্থিতি বদলে যায়। কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীকে প্রার্থী হন মৌসম। কিন্তু ত্রিমুখী লড়াইয়ে ভোট ভাগাভাগির ফলে মালদহ উত্তর আসন চলে যায় বিজেপির খগেন মুর্মুর হাতে। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেস তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে মনোনীত করে।
তবে দলবদলের এই সময়কাল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, মাত্র দিন তিনেক আগেই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক রদবদলে মৌসম নূরকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দলের তরফে তাঁকে মালদহের চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটর বা সংযোজক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। কিন্তু সেই দায়িত্ব পাওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি ঘাসফুল শিবির ছেড়ে ‘হাত’ ধরার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রসঙ্গত, অতীতে কংগ্রেসের টিকিটে জিতেই সাংসদ হয়েছিলেন মৌসম। পরবর্তীকালে তিনি তৃণমূলে যোগদান করেন এবং তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় যান। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে পারিবারিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ মিলিয়ে ফের পুরনো দলেই ফিরলেন তিনি।