ম্যানহাটেনের পরিত্যক্ত স্টেশনে শপথগ্রহণ নিউ ইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানির
নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৩:০০: ১ জানুয়ারি শপথ নিলেন জোহরান মামদানি। রেকর্ড ভোটে জিতে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে নিউইয়র্ক শহরের মেয়র নির্বাচিত হয়ে আগেই নজির গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানি (Zohran Mamdani)। মামদানির নির্বাচিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে প্রথম মুসলমান তথা প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়র পেয়েছে নিউইয়র্ক (NYC)। গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে নিউইয়র্কের সর্ব কনিষ্ঠ মেয়র হলেন মামদানি।
স্থানীয় সময় অনুসারে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে পবিত্র কোরানকে সাক্ষী রেখে ম্যানহাটেনের একটি পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে শপথগ্রহণ তিনি করলেন। শপথ নেওয়ার পর প্রথম বার্তায় তিনি বলেন, “এই সম্মান এবং সুযোগ গর্বের। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মনে থাকবে।” ডেমোক্র্যাট নেতার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিটিয়া জেমস। পবিত্র কোরান হাতে উপস্থিত ছিলেন জোহরানের স্ত্রী রমা দুয়াজি।
১৯০৪ সালে নিউ ইয়র্কে মেট্রো পরিষেবা শুরু হয়েছিল, তখন ১৮টি স্টেশন নির্মাণ করা হয়। তার মধ্যে একটি হল ম্যানহাটেনের এই স্টেশন, যেখানে মামদানি শপথ নিলেন। শহরের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, উন্নত প্রযুক্তির ছোঁয়ায় স্টেশনটি স্থানান্তরিত করা হয়। ফলে পরিত্যক্ত হয়ে যায় পুরনো স্টেশনটি। আজও শহরের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক সিট হল স্টেশন। তাই এই স্টেশনের অবদানের কথা স্মরণ করেই, সেখানে শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মামদানি।
তবে আজই আরও একটি শপথগ্রহণ পর্বের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা নাগাদ মার্কিন সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের পরিচালনায় আরও একটি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে। একটি বিশেষ প্যারেডও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গিয়েছে। জোহরান এবং তাঁর স্ত্রী তাঁদের ভাড়া বাড়ি ছেড়ে ম্যানহাটেনে মেয়র বাসভবনে উঠবেন।
উল্লেখ্য, নিউ ইয়র্কের নয়া মেয়র, স্বনামধন্য চিত্রপরিচালক মীরা নায়ারের (Meera Nair) পুত্র। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মামদানির জন্ম ১৯৯১ সালের ১৮ অক্টোবর উগান্ডার কাম্পালায়। তাঁর বেড়ে ওঠা নিউ ইয়র্ক শহরে। মামদানির পিতা উগান্ডার খ্যাতনামী লেখক মাহমুদ মামদানি। মাহমুদেরও শিকড় রয়েছে ভারতে। তাঁর পূর্বপুরুষও একসময় ভারতে থাকতেন। বর্তমানে জোহরান নিউ ইয়র্কের কুইন্সের বাসিন্দা। কুইন্স শহরে প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশির বাস। সেখানে থাকতে থাকতেই বাংলা ভাষা রপ্ত করেছেন জেহরান। সমাজ মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারে তাঁকে বাংলা ভাষাতেও কথা বলতে শোনা গিয়েছে।