বেকায়দায় ‘পাক-বন্ধু’ তুরস্ক! গ্রিসকে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র রপ্তানি করছে ভারত

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৮:৪৬: ‘শত্রুর শত্রু আমাদের মিত্র’- এই নীতিতেই এবার ভূমধ্যসাগরের তীরে বড় চাল চালল ভারত। ‘পাক-বন্ধু’ তুরস্ককে শায়েস্তা করতে এবার ভারতের উপরেই ভরসা রাখছে অ্যারিস্টটল-প্লেটোর দেশ গ্রিস। তুরস্কের মোকাবিলায় ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি সাঁজোয়া গাড়ি বা ‘ইনফ্যান্ট্রি কমব্যাট ভেহিকল’ (WhAP) কেনার বিষয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল গ্রিস সরকার।
সাইপ্রাস এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরের দ্বীপপুঞ্জগুলি নিয়ে তুরস্ক ও গ্রিসের মধ্যে সংঘাত দীর্ঘদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে সেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াতে ভারতের টাটা গোষ্ঠীর তৈরি সমরাস্ত্রের দিকেই ঝুঁকছে অ্যাথেন্স। সূত্রের খবর, টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড (TASL)-এর তৈরি সাঁজোয়া গাড়ি ‘হুইলড্ আর্মার্ড প্ল্যাটফর্ম’ (WhAP) কেনার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছে গ্রিস।
এটি একটি অত্যাধুনিক সাঁজোয়া গাড়ি, যা যৌথভাবে তৈরি করেছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (DRDO) এবং টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস। গত বছর গ্রিসের রাজধানী অ্যাথেন্সে আয়োজিত এক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে এই গাড়িটি প্রদর্শিত হয়েছিল। দুর্গম এলাকা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে এই গাড়ির কার্যকারিতা দেখে তখনই আগ্রহ প্রকাশ করেছিল গ্রিস। এবার সরকারিভাবে তা কেনার প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে পূর্ব ইউরোপের দেশটি।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই অস্ত্র চুক্তি কেবল বাণিজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পিছনে রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বারবার পাকিস্তানের হয়ে গলা ফাটিয়েছে তুরস্ক। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ও পাকিস্তানকে সমর্থন জানিয়েছিল তারা, এমনকি পাক ফৌজকে অস্ত্র দিয়েও সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে এরদোয়ানের দেশের বিরুদ্ধে। অথচ ভারতের বিমানবন্দর পরিচালনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তুরস্কের সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছে।
দিল্লির মতে, তুরস্কের এই অবস্থান একপ্রকার ‘বিশ্বাসঘাতকতা’। তাই তুরস্ককে চাপে রাখতে তাদের চিরশত্রু গ্রিসের সঙ্গে বন্ধুত্ব গাঢ় করছে ভারত। গ্রিসকে (Greece) শক্তিশালী করার অর্থ পরোক্ষভাবে তুরস্ক এবং পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দেওয়া।
গ্রিসের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে পূর্ব এজিয়ান সাগরের কোস, সামোস এবং লেসবস-সহ একাধিক দ্বীপে অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে তুরস্ক (Türkiye)। ১৯২৩ সালের লুসান চুক্তি অনুযায়ী এই দ্বীপগুলির নিয়ন্ত্রণ গ্রিসের হাতে। এছাড়াও ১৯৭৪ সাল থেকে সাইপ্রাসের উত্তরাংশ বেআইনিভাবে দখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে তুরস্কের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সেখানকার বাফার জোনে তুর্কি সেনার তৎপরতা দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের আবহ তৈরি করেছে।