SIR আতঙ্কে’ ফের জোড়া মৃত্যু রাজ্যে! নোটিস পেয়ে রিষড়ায় মৃত্যু বৃদ্ধের, বর্ধমানে আত্মঘাতী প্রৌঢ়া

January 3, 2026 | 2 min read

নিউজ ডেস্ক, দৃষ্টিভঙ্গি, ১৮:০৭: একই দিনে রাজ্যের দুই জেলায় ‘এসআইআর আতঙ্কে’ দুই মর্মান্তিক মৃত্যু। হুগলির রিষড়ায় শুনানির নোটিস হাতে পাওয়ার পর আতঙ্কে প্রাণ হারালেন ৮৫ বছরের এক বৃদ্ধ। অন্যদিকে পূর্ব বর্ধমানের বৈকুন্ঠপুরে নাম বাদ পড়ার ভয়ে আত্মঘাতী হলেন এক প্রৌঢ়া। এই জোড়া মৃত্যুকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি।

হুগলির রিষড়ার ঘটনায় মৃত বৃদ্ধের নাম ধনঞ্জয় চতুর্বেদী (৮৫)। পরিবার সূত্রে খবর, রিষড়ার এনএস রোডের বাসিন্দা ধনঞ্জয়বাবু বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত কারণে শয্যাশায়ী ছিলেন। কিন্তু অসুস্থ থাকলেও এসআইআর সংক্রান্ত খবরাখবর তিনি রাখতেন। পরিবারের অভিযোগ, গত ২৯ ডিসেম্বর বিএলও (BLO) বাড়িতে এসে শুনানির নোটিস দিয়ে যান। আগামী ৪ জানুয়ারি তাঁর শুনানির দিন ধার্য ছিল। নোটিস পাওয়ার পর থেকেই চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে যান ওই বৃদ্ধ।

মৃতের ছেলে রাজেন্দ্র চতুর্বেদী জানান, তাঁরা প্রায় ৮০ বছর ধরে রিষড়ার বাসিন্দা। তাঁর বাবা বড়বাজারের একটি স্কুলে চাকরি করতেন। সমস্ত বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও কেন এই বয়সে অসুস্থ বাবাকে শুনানির জন্য ডাকা হল, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। রাজেন্দ্রবাবু বলেন, “বাবা সারাক্ষণ চিন্তা করতেন- কোথায় যেতে হবে, কীভাবে যাবেন বা নাম বাদ গেলে কী হবে। এই আতঙ্কেই ওঁর মৃত্যু হল।” শুক্রবার সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রিষড়া মাতৃসদনে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, এসআইআর (SIR) তালিকায় নাম না থাকার আতঙ্কে আত্মঘাতী হওয়ার অভিযোগ উঠেছে পূর্ব বর্ধমানের বৈকুন্ঠপুর-২ পঞ্চায়েতের রায়নগর এলাকায়। মৃতার নাম ফুলমালা পাল (৫৭)। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে রেললাইনে ট্রেনের নীচে ঝাঁপ দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। বর্ধমান জিআরপি দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

পরিবারের দাবি, এসআইআরের খসড়া তালিকায় স্বামী ও পুত্রের নাম থাকলেও ফুলমালার নাম ছিল না। ২০০২ সালের তালিকাতেও তাঁর নাম না থাকায় কমিশনের পক্ষ থেকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়। মৃতার স্বামী সুনীল পাল বলেন, “নোটিস আসার পর থেকেই ও খুব ভয়ে ছিল। আমি বারবার বুঝিয়েছিলাম যে আমাদের নাম আছে, তোমারও হয়ে যাবে। কিন্তু ও আশ্বস্ত হতে পারেনি। সেই আতঙ্কেই এই ঘটনা ঘটাল।”

এই দুই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। ফুলমালা পালের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃতদেহ রাস্তায় রেখে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিধায়ক নিশীথ মালিক, মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ-সহ জেলা নেতৃত্ব। রাস্তা অবরোধ করে তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন। মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ রাতে মৃতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে বলেন, “নোটিস পাওয়ার পর থেকেই ওই মহিলা ভয়ে খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। এই মৃত্যুর জন্য দায়ী কেন্দ্রীয় সরকার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা।”

TwitterFacebookWhatsAppEmailShare

ভিডিও

আরও পড়ুন

Decorative Ring
Maa Ashchen